ঢালিউডের এক সময়ের জনপ্রিয় ও দর্শকপ্রিয় জুটি শাকিব খান ও পূর্ণিমা। একসঙ্গে অসংখ্য ব্যবসাসফল সিনেমা উপহার দিয়ে তারা জয় করেছিলেন দর্শকদের হৃদয়। দীর্ঘদিন পর আবারও মুখোমুখি হলেন এই দুই তারকা। আর সেই পুনর্মিলনের মুহূর্তে শাকিব খানকে দেখে মুগ্ধতার কথাই প্রকাশ করলেন চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা। শনিবার চ্যানেল আইয়ের একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়ে দেখা হয় শাকিব ও পূর্ণিমার। বহুদিন পর একে অপরকে সামনে পেয়ে আন্তরিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি জমে ওঠে স্মৃতিচারণ, হাসি-আড্ডা ও খুনসুটি।
আলাপচারিতার একপর্যায়ে শাকিব খানের বর্তমান লুকের প্রশংসা করে পূর্ণিমা বলেন, “তাকে আমি আগে যেমন দেখেছি, তার চেয়ে এখন অনেক ছোট দেখাচ্ছে। আরও বেশি ছোট। তার যতগুলো সিনেমা আছে, আমি কিন্তু দেখি। ‘তুফান’ পুরোটা দেখেছি, অন্য সিনেমাগুলোও দেখেছি।”
পূর্ণিমার কথায় স্পষ্ট হয়, নিয়মিত একসঙ্গে কাজ না করলেও শাকিব খানের ক্যারিয়ারের অগ্রগতি ও নতুন সিনেমাগুলোর প্রতি তিনি আগ্রহী। দেশীয় চলচ্চিত্রের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও শাকিবের উপস্থিতি নজর এড়ায়নি তার। এরপর মজার ছলেই পূর্ণিমা বলেন, “আমাদের যখন একসঙ্গে কাজ হয়েছিল, তখন যদি এই লুকের শাকিবকে পেতাম, তাহলে আরও ভালো লাগত।”
অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল প্রাণবন্ত পরিবেশ। শাকিব খানকে স্বাগত জানাতে বিশেষভাবে সাজানো হয়েছিল চ্যানেল আই প্রাঙ্গণ। অনুষ্ঠানের আবহে বাজানো হয় জনপ্রিয় গান ‘দুষ্টু কোকিল’। গানটি বাজতেই হাস্যরসের ছলে পূর্ণিমা বলেন, “আজকে কিন্তু দুষ্টু কোকিল আমি হবো। দুষ্টু দুষ্টু প্রশ্ন করবো।” জবাবে হাসতে হাসতেই শাকিব খান বলেন, “যা ইচ্ছা করো।”
একসময় ঢালিউডের অন্যতম সফল জুটি ছিলেন শাকিব খান ও পূর্ণিমা। ‘আই লাভ ইউ’, ‘মা আমার স্বর্গ’, ‘তুমি কত সুন্দর’ ও ‘বাধা’সহ তাদের অভিনীত একাধিক সিনেমা দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। সময়ের ব্যবধানে দুজনের কর্মজীবনের পথ আলাদা হলেও পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বন্ধুত্ব যে এখনো অটুট, সাম্প্রতিক এই সাক্ষাৎ যেন তারই প্রমাণ।
দুই তারকার পুনর্মিলনের ছবি ও ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভক্তদের অনেকেই আবারও তাদের একসঙ্গে বড় পর্দায় দেখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এমনকি কেউ কেউ মনে করছেন, দর্শকদের সেই পুরোনো প্রিয় জুটিকে নিয়ে নতুন কোনো সিনেমা নির্মিত হলে তা নিঃসন্দেহে বাড়তি আগ্রহ তৈরি করবে।

অতি দ্রুতই বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ
- আপডেট টাইম : ০৬:২২:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

আমাদের এইচএসসি সিঙ্গাপুরের ষষ্ঠ শ্রেণির সমান
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ
- আপডেট টাইম : ০৬:১০:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
বাংলাদেশের উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) শিক্ষাকে সিঙ্গাপুরে ষষ্ঠ শ্রেণির সঙ্গে তুলনা করা হয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। বিগত ২০ বছরের অবহেলায় দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার এমন শোচনীয় দশা হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
রোববার (১৪ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
বক্তব্যের শুরুতেই নতুন বাজেটকে জনগণবান্ধব এবং আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে উল্লেখ করে ববি হাজ্জাজ বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারেই পরিষ্কার ছিল যে শিক্ষা খাতকে জাতির সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হবে। প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান এবং অর্থমন্ত্রী প্রথম থেকেই পরিষ্কার করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় দেশ ও জাতির সামনে এবারই প্রথম দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় বিনিয়োগের অংশ হিসেবে সামগ্রিক শিক্ষা খাতে সবচেয়ে বড় বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বিশেষ করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা খাতকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করে একে পুরোপুরি ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিগত ২০ বছরের শিক্ষা ব্যবস্থার সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষায় অরাজকতার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষায় অনেক শিক্ষার্থী পাস পর্যন্ত করতে পারে না। সিঙ্গাপুরে আমাদের দেশের উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) লেভেলকে তাদের ষষ্ঠ শ্রেণির সমমান হিসেবে তুলনা করা হয়।
এ অবস্থা থেকে উত্তরণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় প্রাথমিক শিক্ষার কারিকুলাম, শিক্ষকদের মানোন্নয়ন, অবকাঠামো এবং প্রশাসনসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংস্কারের হাত দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার যখন সঠিক শিক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে প্রাথমিকে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণি থেকেই খেলাধুলা, স্পোর্টস এবং কালচার বা সাংস্কৃতিক কারিকুলাম অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা শুরু করেছে, তখন বিরোধীদের কেউ কেউ এ নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণা চালাচ্ছেন। অথচ এই বিরোধী শিবিরেরই অনেকে অতীতে নারী সংসদ সদস্যদের নিয়ে এমন কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন যা ভদ্র সমাজে উচ্চারণ করা যায় না। একই নোংরা মনোভাব থেকে তারা এখন অপপ্রচার চালাচ্ছেন যে সাংস্কৃতিক শিক্ষা নাকি সন্তানদের ভুল পথে নিয়ে যাবে।
অতীতে শিক্ষা খাতে জিডিপির ১ দশমিক ৩ বা ১ দশমিক ৪ শতাংশ বরাদ্দ থাকলেও এবার তা বৃদ্ধি করে ২ শতাংশ করা হয়েছে এবং আগামী দিনগুলোতে এটি পর্যায়ক্রমে ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি নীতিতে পরিবর্তনের আভাস
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ
- আপডেট টাইম : ০৬:০১:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলির দায়িত্ব এখন থেকে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে পরিচালিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
রোববার (১৪ জুন) রাজধানীর শেরাটন হোটেলে ইউনিসেফ আয়োজিত এক কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে গঠিত কমিটির কাছে শিক্ষকরা বদলির আবেদন জমা দেবেন। সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো প্রতি মাসে একবার সভা করে আবেদনগুলো পর্যালোচনা করবে এবং বদলি অনুমোদন দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
তিনি বলেন, শিক্ষকদের বদলি ঘিরে বিগত দিনে বড় একটা সিন্ডিকেট বা করাপশনের (দুর্নীতি) জায়গা তৈরি হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে এটাতে নজর দিয়েছেন। আমাদের শিক্ষামন্ত্রী এখানে আছেন, আমরা সবাই মিলে নতুন পলিসি গ্রহণ করেছি যে প্রাথমিকে…মাধ্যমিকেও; কিন্তু শুধু প্রাথমিক নিয়ে কথা বলবো। প্রাথমিকে টিচার্স ট্রান্সফার (শিক্ষক বদলি) এটা লোকালাইজ (স্থানীয়) করে দেওয়া হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, লোকাল টিম গঠন করা হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে ইউএনওর নেতৃত্বে সেখানে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষার অফিসার থাকবেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার থাকবেন। এরকম চারজন সদস্য ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। তারা মাসে একবার বসবেন। ওই মাসে যতগুলো রিকোয়েস্ট (আবেদন) আসবে, সেগুলো রিভিউ করে তারা সিদ্ধান্ত নেবেন যে ট্রান্সফার অ্যালাউ (বদলি অনুমোদন) করবেন, কি করবেন না।
তিনি আরও বলেন, ‘সেইম (একই) জিনিসটা ডিসির অধীনে জেলা পর্যায়েও করা হয়েছে। বিভাগীয় কমিশনারের আন্ডারে ডিভিশন লেভেলে করা হয়েছে। এটা করে করাপশনের (দুর্নীতি) সব জায়গাগুলোকে আমরা বন্ধ করে দিতে চাই’।
‘ভ্যালিডেশন ওয়ার্কশপ অন দ্য বাংলাদেশ এডুকেশন সেক্টর অ্যানালাইসিস (ইএসএ)’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এতে শিক্ষাবিদ ও ইউনিসেফের কান্ট্রি ডিরেক্টরসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
আগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষকদের বদলির জন্য নির্দিষ্ট সময় ঠিক করা ছিল। সে সময়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে আবেদন চাওয়া হতো। প্রথমে উপজেলা থেকে উপজেলা; তারপর জেলা থেকে জেলা এবং বিভাগ থেকে বিভাগ পর্যায়ে পর্যায়ক্রমে আবেদন নেওয়া হতো।
অনলাইনে এসব আবেদন করার পর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তা যাচাই করে ফরোয়ার্ড করতেন। পরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হয়ে তা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে আসতো। অধিদপ্তর চূড়ান্ত অনুমোদন দিলে বদলি অনুমোদিত হতো।

দীর্ঘ ১১ বছর পর লিটনের ব্যাটে এলো প্রথম ফিফটি
- ক্রীড়া ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৫:৫৫:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
মিরপুরেই অভিষেক হয়েছিল। ২০১৫ সালে ভারতের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডের সেই ম্যাচে মাত্র ৮ রান করে ফিরেছিলেন লিটন দাস। এরপর কেটে গেছে ১১ বছর। জাতীয় দলের জার্সিতে অসংখ্য স্মরণীয় ইনিংস খেলেছেন, সেঞ্চুরিও করেছেন একাধিক। কিন্তু মিরপুরের ওয়ানডে ক্রিকেট যেন বারবারই তাকে আটকে রেখেছিল এক অদৃশ্য দেয়ালে।
অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান হলো। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে বহু প্রতীক্ষিত ফিফটির দেখা পেয়েছেন লিটন। ইনিংসের এক পর্যায়ে পায়ের পেশিতে টান লেগে ৪৮ রানে মাঠ ছাড়লেও শেষ দিকে আবার ব্যাট হাতে ফেরেন তিনি। ৪৯তম ওভারের শেষ বলে দুই রান নিয়ে স্পর্শ করেন অর্ধশতকের মাইলফলক।
শেষ পর্যন্ত ৫৮ রানে অপরাজিত থাকেন এই উইকেটকিপার ব্যাটার। মিরপুরে এটা যেমন লিটনের প্রথম ফিফটি, তেমনি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও প্রথম। শেরেবাংলায় ওয়ানডে ক্রিকেটে লিটনের পরিসংখ্যান ছিল বিস্ময়করভাবে হতাশাজনক। এই ম্যাচের আগে শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ২৮ ইনিংস খেলেও কোনো ফিফটি করতে পারেননি তিনি। চলতি সিরিজের প্রথম ম্যাচ শেষে ১৭ এর সামান্য বেশি গড়ে করেছিলেন মাত্র ৪৩৯ রান। ছিল চারটি ডাকও।
এমনকি ক্যারিয়ারে প্রায় ৮৫ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করা লিটন মিরপুরে ৭০ স্ট্রাইক রেটও স্পর্শ করতে পারেননি। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ ওয়ানডেতে ফিফটি পেয়ে লিটন যেন সব সমীকরণই পাল্টে দিয়েছেন। অর্ধশতক করার দিনে তার ব্যাটিং স্ট্রাইক রেট ছিল ৭৪।
সাম্প্রতিক সময়েও মিরপুরে ব্যাটে আক্ষেপে পুড়েছেন লিটন। পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ড সিরিজে তিনটি চল্লিশোর্ধ্ব ইনিংস খেলেও ফিফটির দেখা পাননি। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই অর্ধশতক শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং দীর্ঘদিনের এক অপূর্ণতার অবসান।
বাংলাদেশ যখন ৬১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে, তখন তাওহীদ হৃদয়কে সঙ্গে নিয়ে ইনিংস গড়ার দায়িত্ব নেন লিটন। দুজনের ৯২ রানের জুটি দলকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনে। সেই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে পরে বড় সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। তবে স্বস্তির বিষয়, মিরপুরে অধরা ফিফটিটা শেষ পর্যন্ত পেলেন লিটন।

সলঙ্গার রয়েল রূপালী হোটেলে বাসি খাবার বিক্রির অভিযোগ
- কাইয়ুম মাহমুদ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৫:৪২:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

নোয়াখালীতে কিশোররীকে ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশ কর্মকর্তা প্রত্যাহার
- মো.ইসমাইল হোসেন, নোয়াখালী ব্যুরো প্রধান। জনতার কণ্ঠ.কম।
- আপডেট টাইম : ০৫:৩৩:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
নোয়াখালীর হাতিয়ায় ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের এক পরিদর্শকের বিরুদ্ধে। অভিযোগের পর অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা খোরশেদ আলম জাহাজমারা পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ (আইসি) হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।
শনিবার (১৩ জুন) রাতে নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) টি.এম. মোশাররফ হোসেন স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাকে প্রত্যাহার করা হয়। ভুক্তভোগী কিশোরীর অভিযোগ, প্রায় ছয় মাস আগে জাহাজমারা পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের মেসে তাকে ধর্ষণ করা হয়। ঘটনার পরপরই তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে বিষয়টি জানান।
কিশোরীর ভাষ্যমতে, তার মা ও ভাই জাহাজমারা পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের মেসে রান্নার কাজ করতেন। সে কারণে তিনি মাঝে মধ্যে সেখানে যেতেন। অভিযুক্ত কর্মকর্তা বিভিন্ন সময় তাকে বাসার তিনতলায় ডেকে ঘর পরিষ্কার, কাপড় ধোয়া ও বিছানা গুছানোর কাজের কথা বলতেন। একপর্যায়ে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করেন কিশোরী। বাধা দিলে তাকে এবং তার মাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হতো। পাশাপাশি মোবাইল ফোন কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা দিয়ে বিদায় করে দিত।
চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি ভুক্তভোগী তার মাকে বিষয়টি জানান। পরে কিশোরীর মা হাতিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার বিস্তারিত লিখিত বক্তব্যও নেওয়া হয়। তবে অভিযুক্তের পক্ষ নিয়ে স্থানীয় দুই ব্যক্তি তাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেন বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীর পরিবার। এরপর থেকে তারা প্রায় চার মাস ধরে আতঙ্কে আত্মগোপনে রয়েছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পুলিশ পরিদর্শক খোরশেদ আলম। তিনি বলেন, এক এসআইকে বদলি করায় সে কাজের মেয়েকে দিয়ে ভুয়া একটি ভিডিও বানায়। সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতেই তার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, “আমার বয়স প্রায় ৬০ বছর। এ ধরনের কাজ আমি করিনি।”
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন জানান, শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপিত হয়। বিষয়টি নজরে আসার পরই তাকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে নোয়াখালীর পুলিশ সুপার টি.এম. মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে তিনি জেলার আরেক গণমাধ্যম কর্মীকে জানান, এর আগেও এ ধরনের একটি অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল। তখন সার্কেলের এএসপিকে দিয়ে তদন্ত করা হলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। সাম্প্রতিক সময়ে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পুনরায় যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ধুনটে পারলক্ষীপুর কাঁচা রাস্তায় রাবিশ ফেলে চলাচলের উপযোগী করে দিলেন এমপি পুত্র সানভি
- মনিরুজ্জামান মনির, ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৫:২৩:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

মানহানির দুই মামলায় মুফতি আমির হামজার স্থায়ী জামিন
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ
- আপডেট টাইম : ০৪:১৭:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নাস্তিক ও ইসলাম বিদ্বেষী বলার অভিযোগে দায়ের হওয়া দুটি মানহানি মামলায় কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজাকে স্থায়ী জামিন দিয়েছে নিম্ন আদালত।
রোববার (১৪ জুন) বিকেল ৩টার দিকে সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত সিরাজগঞ্জ সুমন কুমার কর্মকার তার জামিন মঞ্জুর করেন। এ সময় চীফ চুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মো. আব্দুল মতিন উপস্থিত ছিলেন। এর আগে দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটের দিকে আদালতে তিনি আত্মসমর্পণ করেন।
এদিকে মুফতি আমির হামজার আত্মসমর্পণকে ঘিরে আদালত চত্বরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পুরো আদালত চত্বর ফাঁকা করে দিয়ে পুলিশ ও র্যা ব নিরাপত্তার চাদরে ঘিরে ফেলে। সাংবাদিক প্রবেশেও ছিল ব্যাপক কড়াকড়ি।
৩টা ১০ মিনিটে আদালত থেকে বেরিয়ে যান মুফতি আমির হামজা। এ সময় সাংবাদিকরা তাকে প্রশ্ন করলে কোন জবাব না দিয়ে দ্রুত গাড়িতে উঠে আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন।
মুফতি আমির হামজার আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবু তালেব জানান, আমাদের সিরাজগঞ্জের আইনজীবি কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা আমির হামজার বিরুদ্ধে মানহানি মামলা দায়ের করেছিলেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি হলে তিনি মহামান্য হাইকোর্টে বিভাগে জামিন আবেদন করেন। মহানমান্য হাইকোর্টের নির্দেশে মোতাবেক আজকে আমরা চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে এসে স্বেচ্ছায় বেলবন্ড ফার্নিশ করে। যেহেতু উনি সংসদ সদস্য, ওনার অনেক ব্যস্ততা রয়েছে। চৌহালী আদালতে তাঁর স্থায়ী জামিনের প্রার্থনা করলে বিজ্ঞ আদালত তা মনঞ্জুর করেন। জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামীম খান দায়ের করা অপর একটি মামলাতেও তার বিরুদ্ধে সমন জারি হয়েছিল। ওই মামলাতেও আমরা জামিন আবেদন করলে বিচারক মঞ্জুর করেন।
মামলার বাদী অ্যাডভোকেট হুমায়ন কবির কর্ণেল বলেন, মাননীয় জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নাস্তিক ও ইসলাম বিদ্বেষী আখ্যা দেওয়ায় আমি বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছিলাম। ওই মামরায় ওনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা হয়েছিল, পেপার বিজ্ঞপ্তি হয়েছে। উনি মহামান্য হাইকোর্টে জামিন চেয়েছিলেন। মহামান্য হাইকোর্ট ৮ সপ্তাহের জামিন মনজুর করে। আজকে তার শেষ তারিখ ছিল। আজকে তিনি চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে বেল বন্ড ফার্নিশ করেন। অপরদিকে তিনি মূল মামলায় চৌহালী আমলী আদালতে জামিন চেয়েছেন। বিজ্ঞ আদালত ১০ হাজার টাকা জামানতে জামিন মঞ্জুর করেছেন। এছাড়াও সদর থানা আমলী আদালতে ভিপি শামীম খান বাদী হয়ে আরেকটি মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলাতেও জামিন পেয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত ২৬ মার্চ মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর দেওয়া একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়ার একটি মসজিদে প্রকাশ্য সভায় তাঁকে ‘নাস্তিক’ ও ‘ইসলামবিদ্বেষী বলে মন্তব্য করেন আমির হামজা। তার ওই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও জাতীয় গণমাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়।
এ ঘটনায় গত ২ এপ্রিল মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেন অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির কর্ণেল। এ মামলায় ওইদিনই আদালত সমন জারি করে ২১ এপ্রিল হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। নির্ধারিত তারিখে হাজির না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে নিম্ন আদালত।

মুন্সীগঞ্জ জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত
- মোঃ দুলাল সরকার, (গজারিয়ায়) প্রতিবেদক। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৪:১১:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

নারায়ণগঞ্জে মাদক কারবারিদের হামলায় পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ
- আপডেট টাইম : ০৪:০২:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে মাদক কারবারিদের হামলার মুখে পড়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় এক এসআইসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী মনির ওরফে ফাইটার মনিরসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৪ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ফতুল্লার মাসদাইর গুদারাঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— ফাইটার মনির (৩৮), নাঈম (২৮) ও মাসুম (২৪)।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই নন্দন সরকারের নেতৃত্বে একটি দল গুদারাঘাট এলাকায় ফাইটার মনিরের মাদক স্পটে অভিযান চালায়। এ সময় ১৫ কেজি গাঁজাসহ মনির ও তার দুই সহযোগীকে আটক করা হয়।
আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে মনিরের সহযোগীরা সংঘবদ্ধ হয়ে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ১০ থেকে ১২ রাউন্ড গুলি ছোড়ে এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আত্মরক্ষার্থে পুলিশও শটগান থেকে দুই রাউন্ড গুলি ছোড়ে।
একপর্যায়ে হামলাকারীদের ছোড়া গুলিতে ফাইটার মনিরের পায়ে গুলি লাগে। হামলায় আহত হন এসআই নন্দন সরকার, এসআই মনির, এএসআই কামরুল হাসান, এএসআই মনির হোসাইন ও কনস্টেবল আশিক। পরে তাদের নারায়ণগঞ্জের খানপুর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মাহবুব আলম বলেন, ‘মাদকবিরোধী অভিযানে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ফাইটার মনিরকে বিপুল পরিমাণ গাঁজাসহ আটক করা হয়েছে। তাকে ছাড়িয়ে নিতে সহযোগীরা পুলিশের ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণ করে। পরে পুলিশের প্রতিরোধের মুখে তারা পালিয়ে যায়।’
তিনি জানান, এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ দুবাইতে গ্রেপ্তার
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ
- আপডেট টাইম : ০৩:৫৫:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিবী) বেনজীর আহমেদ দুবাই থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় ইন্টারপোলের সহযোগিতায় তাকে গ্রেপ্তার করেছে দুবাই পুলিশ।
পুলিশ সদরদপ্তরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা রোববার (১৪ জুন) দুপুরে গণমাধ্যমের কাছে তথ্যটি নিশ্চিত করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই কর্মকর্তা বলেন, দুদকের মামলায় ইন্টারপোলের সহযোগিতায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ১২ জুন তারা একটি চিঠি দিয়ে আমাদের এ তথ্য জানিয়েছে।
এর আগে ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের জন্য ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির আদেশ দেয় আদালত। ঢাকা মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. জাকির হোসেন এ আদেশ দেন।
অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে বেনজীর ও তার স্ত্রী-কন্যাদের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে পৃথক চারটি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
আগে ৭৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ এবং তার স্ত্রী ও দুই মেয়ের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর পৃথক চারটি মামলা করে দুদক।
মামলায় বেনজীর আহমেদের পরিবারের বিরুদ্ধে ৭৪ কোটি ১৩ লাখ ৩৯ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়-বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপন করার অভিযোগ আনা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশের মহাপরিদর্শক ছিলেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার ও র্যাবের মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

আজ কিউবার বিপ্লবী চে গুয়েভারার ৯৮তম জন্মদিন
- আন্তর্জাতিক ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০১:২২:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
আজ রোববার (১৪ জুন) কিউবার বিপ্লবী চে গুয়েভারার ৯৮তম জন্মবার্ষিকী। মহান চে গুয়েভারা পেশায় একজন চিকিৎসক হলেও তিনি ছিলেন একাধারে বিপ্লবী, লেখক, বুদ্ধিজীবী, গেরিলা নেতা, কূটনীতিবিদ ও সমরবিদ। তার পুরো নাম আর্নেস্তো গুয়েভারা দে লা সেরনা। তবে কিউবার জনগণ তাঁকে ভালবেসে চে (প্রিয়) নাম দিয়েছেন।
১৯২৮ সালের এই দিনে আর্জেন্টিনার সান্তা ফে শহরে তাঁর জন্ম। ইতিহাস নন্দিত এই বিপ্লবীর নেতৃত্বে কিউবায় সফল বিপ্লবে সংঘটিত হয়।
১৯৫৫ সালে ঘটনাক্রমে মেক্সিকো সিটিতে নির্বাসিত কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রো ও রাউল কাস্ত্রোর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। তিনি ফিদেল কাস্ত্রোর দলে যোগ দিয়ে কিউবার তৎকালীন একনায়ক বাতিস্তাকে উৎখাত আন্দোলনে যুক্ত হন। দুই বছরব্যাপী চলা এই আন্দোলন সফল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ফলে চে হয়ে ওঠেন কাস্ত্রো ভাইদের কাছের মানুষ এবং পরে কিউবার শিল্পমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধানসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন।
চে গুয়েভারা ছিলেন আজন্ম বিপ্লবী। তিনি নতুন দেশে বিপ্লবের আশায় কিউবা ত্যাগ করেন। তিনি তাঁর সেকেন্ড ইন কমান্ড ভিক্টর বার্ক এবং ১২ জন সহযোদ্ধা নিয়ে কঙ্গোয় গিয়ে প্যাট্রিস লুমুম্বার নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে সংগঠিত করার দায়িত্ব নেন।
এরপর চে তাঁর সহযোদ্ধাদের নিয়ে চলে যান বলিভিয়ায়। সেখানে গিয়ে শুরু করেন যুক্তরাষ্ট্রের মদদপুষ্ট স্বৈরশাসক বারিয়েন্তোসের বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধ। বলিভিয়ার সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধরত অবস্থায় গুরুতর আহত হয়ে বন্দি হন চে। দেশটির লা হিগুয়েরা নামে একটি শহরের স্কুলঘরে সারারাত আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। পরদিন ১৯৬৭ সালের ৯ অক্টোবর বলিভিয়ার সেনাবাহিনী তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে। মৃত্যুর পর সমাজতন্ত্র অনুসারীদের জন্য অনুকরণীয় আদর্শে পরিণত হন চে গুয়েভারা।

অষ্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশের মিশনে দারুণ ব্যাট করছে টাইগাররা
- ক্রীড়া ডেস্ক। জনতারকণ্ঠ.কম।
- আপডেট টাইম : ০১:১৬:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে টসে জিতে ব্যাটিংয়ের ঘোষণা দেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। এরপরই দুর্দান্ত ব্যাটিং শুরু করে টাইগাররা।
ইতিমধ্যে সিরিজ নিজেদের করে নেওয়া বাংলাদেশের সামনে এখন অজিদের হোয়াইটওয়াশ করার সুযোগ। সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই মাঠে নেমেছে টাইগাররা।
শেষ ম্যাচে একাদশে দুটি পরিবর্তন এনেছে লাল-সবুজ বাহিনী। কনকাশনের কারণে দলে নেই মেহেদী হাসান মিরাজ। মূলত তার পরিবর্তে সুযোগ পেয়েছেন শেখ মেহেদি হাসান। এছাড়া পেসার নাহিদ রানার জায়গায় একাদশে ডাক পেয়েছেন শরিফুল ইসলাম।
প্রথম দুই ম্যাচে ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং— সব বিভাগেই দাপট দেখিয়ে জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। তাই শেষ ম্যাচেও একই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে সিরিজ ৩-০ ব্যবধানে জয়ের প্রত্যাশা স্বাগতিকদের।
অন্যদিকে এরই মধ্যে সিরিজ হারানো অস্ট্রেলিয়ার লক্ষ্য অন্তত শেষ ম্যাচটি জিতে হোয়াইটওয়াশ এড়ানো।

খুলনায় ফজরের নামাজ চলাকালে মসজিদে ঢুকে গুলিবর্ষণ, আহত দুই
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ.কম।
- আপডেট টাইম : ১২:৫০:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
খুলনায় ফজরের নামাজ চলাকালে মসজিদের ভেতরে ঢুকে মুসল্লিদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়েছে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত। এ ঘটনায় মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদকসহ (সেক্রেটারি) দুই মুসল্লি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।
রোববার (১৪ জুন) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মহানগরীর দৌলতপুর থানার পশ্চিম কাশীপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র জামে মসজিদে এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিরা হলেন- মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি লোকমান হাকিম (৪৫) এবং স্থানীয় মুসল্লি আলম শেখ (৫৫)।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মসজিদে ফজরের জামাত চলছিল। নামাজ চলাকালীন আকস্মিকভাবে কয়েকজন সশস্ত্র দুর্বৃত্ত মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করে। তারা সরাসরি মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি লোকমান হাকিমকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ সময় পাশে থাকা আলম শেখ নামের আরেক মুসল্লিও গুলিবিদ্ধ হন। গুলিতে রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনেই মসজিদের মেঝেতে লুটিয়ে পড়লে দুর্বৃত্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
পবিত্র উপাসনালয়ের ভেতরে গুলির শব্দ শুনে আশপাশের বাসিন্দা ও অন্য মুসল্লিরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে তারা রক্তাক্ত অবস্থায় আহত দুজনকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে লোকমান হাকিমের শারীরিক অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকায় পাঠানো হয়।
খুলনা মহানগর পুলিশের (কেএমপি) সহকারী পুলিশ কমিশনার (দৌলতপুর জোন) মো. শফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং সেখান থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করেছে। অপরাধীদের শনাক্ত করতে সংলগ্ন এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। এই হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং জড়িতদের পরিচয় উদ্ঘাটনে পুলিশের একাধিক দল মাঠে কাজ করছে।
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, গুলিবিদ্ধ লোকমান হাকিম ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) একজন তালিকাভুক্ত ঠিকাদার এবং জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী। ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব কিংবা পূর্বশত্রুতার জেরে এই পরিকল্পিত হামলার ঘটনা ঘটেছে কি না, তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বিশ্বকাপ ফুটবলের আয়োজক দেশ মেক্সিকোতে সশস্ত্র হামলায় মেয়র নিহত
- আন্তর্জাতিক ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ১২:৪২:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
মেক্সিকোর দক্ষিণাঞ্চলের ওয়াহাকা রাজ্যে সশস্ত্র হামলায় একটি শহরের মেয়র নিহত হয়েছেন। নিহত মেয়রের নাম জোয়েল ব্রাভো। তিনি সান মিগেল আমাতিতলান শহরের মেয়র ছিলেন।
রাজ্যের প্রসিকিউটর কার্যালয় জানিয়েছে, সশস্ত্র হামলায় তিনি নিহত হন। তবে হামলার বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। খবর এএফপির।
ওয়াহাকার গভর্নর সালোমোন হারা এ হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, রাজ্যে কোনো ধরনের সহিংসতা বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া বরদাশত করা হবে না।
ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হামলাকারীদের খুঁজে বের করতে বিশেষ ট্যাকটিক্যাল ইউনিট কাজ করছে। এ অভিযানে ফেডারেল বাহিনীর সহায়তাও নেওয়া হচ্ছে।
ওয়াহাকা রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে জালিস্কো নুয়েভা জেনারাসিওন ও সিনালোয়া কার্টেল নামে দুটি শক্তিশালী মাদক চক্র সক্রিয় রয়েছে। মাদক পাচারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এসব গোষ্ঠীর মধ্যে প্রায়ই সংঘর্ষ হয়।
মেক্সিকোতে মাদক-সংশ্লিষ্ট সহিংসতা গত দুই দশকে ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ২০০৬ সালের পর থেকে দেশটিতে প্রায় ১০০ জন মেয়র হত্যার শিকার হয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মানহানি মামলায় সিরাজগঞ্জ আদালতে আত্মসমর্পণ করছেন আমির হামজা
- নিজস্ব প্রতিবেদক। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ১২:৩৬:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নাস্তিক ও ইসলাম বিদ্বেষী বলার অভিযোগে দায়ের করা মানহানির মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করছেন কুষ্টিয়া–৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা আমির হামজা।
রোববার (১৪ জুন) দুপুর দুইটার দিকে তিনি সিরাজগঞ্জের চৌহালী আমলি আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন।
মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবি জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট শাকিল মোহাম্মদ শরিফুর হায়দার রফিক সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, আজ দুপুর ২টার দিকে মামলার আসামি মুফতি আমির হামজা সিরাজগঞ্জ সদর আমলী আদালতে আত্মসমর্পণ করার কথা রয়েছে।
এর আগে গত ২ এপ্রিল ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নিয়ে প্রকাশ্য জনসভায় মানহানিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে সিরাজগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন কবীর কর্ণেল বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
ওইদিনই আদালতের বিচারক সুমন কর্মকার মামলাটি আমলে নিয়ে সমন জারির নির্দেশ দিয়েছিলেন।
কিন্তু তিনি নির্ধারিত তারিখে আমির হামজা আদালতে হাজির না হওয়ায় ২১ এপ্রিল বিচারক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন।
বাদী হুমায়ুন কবির কর্ণের বলেন, সম্ভ্রান্ত মুসিলম পরিবারের সন্তান ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি তার নির্বাচনী এলাকায় মসজিদ ও মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন। মায়ের নামে করেছেন এতিমখানা। তিনি নিয়মিত নামাজ পড়েন রোজা রাখেন। অথচ গত ২৭ মার্চ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর বড় মসজিদে জুমার খুতবার আগে আলোচনায় মুফতি আমির হামজা বলেছিলেন, ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু একজন নাস্তিক ও আপাদমস্তক ইসলামবিদ্বেষী।’
বাদী আরও বলেন, আমির হামজার ওই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরে এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভিডিওটি প্রচারিত হয়। তার ওই বক্তব্যে মন্ত্রীর সম্মানহানি হওয়ায় দণ্ডবিধির ২৯৬, ৫০০ ও ৫০৪ ধারায় মানহানির একটি মামলা করি।
সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম বলেন, মুফতি আমির হামজা এমপি যোহর নামাজ শেষে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করবেন।

জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ আগুনে পুড়িয়ে দিল নোয়াখালী ছাত্রলীগ
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ.কম।
- আপডেট টাইম : ১২:০৯:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
নোয়াখালীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে কাজ শুরু করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৩ জুন) ভোররাতে জেলা শহরের জজ আদালত সড়কের উত্তর পাশে অবস্থিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভের মাঝখানে নির্মিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে এ অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। তবে দিনভর বিষয়টি কারও নজরে না আসায় ঘটনাটি জানাজানি হয়নি। পরে শনিবার সন্ধ্যার দিকে স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের ২৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এরপর পুলিশ ঘটনাটি তদন্তে তৎপর হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, একদল তরুণ স্মৃতিস্তম্ভ ও এর আশপাশে দাহ্য পদার্থ ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে স্মৃতিস্তম্ভের নিচের অংশের কিছু অংশ পুড়ে যায়। ভিডিওতে উপস্থিত একজনকে বলতে শোনা যায়, স্বাধীন সার্বভৌম এই দেশ থেকে রাজাকারের চিহ্ন মুছে ফেলার জন্য বাংলাদেশ ছাত্রলীগই যথেষ্ট। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু। শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে। নোয়াখালী থেকে রাজাকার বিতাড়িত করার জন্য বাংলাদেশ ছাত্রলীগ প্রস্তুত। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
এ বিষয়ে সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে কারা এবং কখন আগুন দিয়েছে, সে বিষয়ে আগে আমাদের কাছে কোনো তথ্য ছিল না। যারা এ কাজ করেছে, তারাই একটি ভিডিও ফেসবুকে আপলোড করেছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দেখা গেছে, আগুনের কারণে স্মৃতিস্তম্ভের কিছু অংশ কালো হয়ে গেছে। ভিডিও ফুটেজ ও সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ করে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের বিক্ষোভ
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ.কম।
- আপডেট টাইম : ১১:৫৭:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
কুমিল্লার দাউদকান্দিতে নিখোঁজ ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। সমাবেশে সংগঠনটির নেতারা গুমের অভিযোগ নিয়ে ‘প্রোপাগান্ডা’ ছড়ানোর অভিযোগও তোলেন।
শনিবার (১৩ জুন) রাত ৯টায় রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। মিছিলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য হয়ে শাহবাগ গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
সমাবেশে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ‘ছাত্রশিবিরের প্রতি ধিক্কার জানাচ্ছি। তারা ভুক্তভোগী নারীর নাম উল্লেখ করে প্রেস রিলিজ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করেছে। কথায় কথায় তারা ইসলামের কথা বলে, নারীর অধিকারের কথা বলে; কিন্তু তাদের আসল চরিত্র তাদের কর্মকাণ্ডেই প্রকাশ পেয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর আমির, নির্বাচিত এমপিবৃন্দ এবং শিবিরের বিভিন্ন স্তরের নেতারা একযোগে দেশে আবার গুমের সংস্কৃতি চালু হয়েছে বলে প্রচার চালিয়েছেন। বিগত দুই বছরে যারা মবকে উসকে দিয়েছে, নেতৃত্ব দিয়েছে এবং বিভিন্ন ক্যাম্পাসে প্রোপাগান্ডা ও মিথ্যাচার ছড়িয়েছে, তাদের প্রতি আমরা ধিক্কার জানাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘গুমের মতো রাষ্ট্রীয় অপরাধকে স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে আমরা উদ্বিগ্ন। অতীতে শত শত নেতাকর্মী গুমের শিকার হয়েছেন, অথচ তাদের প্রতি তাচ্ছিল্য প্রদর্শন করা হচ্ছে।’
ক্যাম্পাস রাজনীতি প্রসঙ্গে ছাত্রদল সভাপতি অভিযোগ করেন, ‘বুয়েট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন গ্রুপ ও পেজ দখল করে প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে, যা ক্যাম্পাসের সহনশীল পরিবেশ নষ্ট করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেন্দ্রিক এই রাজনীতির সুযোগ নিচ্ছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ।’
সমাবেশে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির বলেন, ‘কুমিল্লায় যাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে, তার নাম আমরা ছাত্রশিবিরের প্রকাশিত কোনো কমিটিতে দেখিনি। শিবির তাদের কেন্দ্রীয় কমিটিও প্রকাশ করেনি।’
তিনি দাবি করেন, ‘শিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রেমের সম্পর্কের কারণে অভিযুক্তকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কিন্তু ধর্ষণ ও ভ্রূণ হত্যার অভিযোগের বিষয়ে তারা কোনো বিচার করেনি বলে আমরা মনে করি।’
গুমের অভিযোগ প্রসঙ্গে নাসির বলেন, ‘গুমের নাটক মঞ্চস্থ করে তারা অতীতের প্রকৃত গুমের ঘটনাগুলোকে অপমান করেছে। কোনো ঘটনা ঘটলেই জামায়াতের আমির তার ভেরিফায়েড আইডি থেকে গুমের অভিযোগ তোলেন। পাঁচ আগস্টের পর দেশে যত প্রোপাগান্ডা ছড়িয়েছে, তার বড় অংশই জামায়াতের আমিরের মাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে।’
সমাবেশে ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন।
সমাবেশে অন্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান, সহসভাপতি খোরশেদ আলম সোহেল ও শাফি ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসান ও মাসুদুর রহমান, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক মিনহাজ আহমেদ প্রিন্স, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মাহমুদ ইসলাম কাজল, ঢাবি ছাত্রদলের সভাপতি গণেশচন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনসহ বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা।
বক্তারা অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান এবং গুম ও অন্যান্য ইস্যুতে ‘রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা’ বন্ধের আহ্বান জানান।

আজ থেকে চালু আইসিইউ সুবিধা, উপকৃত হবে ১০ জেলার মানুষ
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ.কম।
- আপডেট টাইম : ১১:৪৬:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
আইসিইউ নিয়ে সুখবর পাচ্ছে দেশের ১০ জেলার মানুষ। জরুরি রেসপন্স ও মহামারি প্রস্তুতি (ইআরপিপি) প্রকল্পের আওতায় সেখানকার সদর হাসপাতালে চালু হচ্ছে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)।
প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি ও জনবল নিশ্চিত করে শুরু হওয়া এই উদ্যোগের ফলে শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক জটিল রোগীরা এখন নিজ জেলাতেই উন্নতমানের ‘ক্রিটিক্যাল কেয়ার’ সেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এসব আইসিইউর কার্যক্রম রোববার (১৪ জুন) উদ্বোধন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
নতুন আইসিইউ সুবিধা চালু হচ্ছে মুন্সীগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতাল, টাঙ্গাইল ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতাল, সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতাল, গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল, চুয়াডাঙ্গা জেলা হাসপাতাল, নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতাল, যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল, শেরপুর ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতাল, মাদারীপুর জেলা হাসপাতাল এবং বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি আইসিইউতে প্রয়োজনীয় পেডিয়াট্রিক ভেন্টিলেটর, অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটরসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব ইউনিট পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবলও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন এসব আইসিইউ চালুর ফলে জেলা পর্যায়েই শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক জটিল রোগীদের উন্নত জরুরি ও নিবিড় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এতে গুরুতর রোগীদের চিকিৎসার জন্য রাজধানী বা বড় শহরে ছুটে যাওয়ার প্রয়োজন অনেকাংশে কমে আসবে।
তাদের মতে, স্থানীয় পর্যায়ে আধুনিক ‘ক্রিটিক্যাল কেয়ার’ সেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নের পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতি ও মহামারি মোকাবিলার সক্ষমতাও আরও জোরদার হবে।

ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু, ব্রাজিলের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ
- ক্রীড়া ডেস্ক। জনতারকণ্ঠ.কম।
- আপডেট টাইম : ১১:৪০:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
হেক্সা মিশনের শুরুতেই হোঁচট খেলো পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। গ্রুপপর্বের হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে শুরুতে পিছিয়ে পড়ার পর ভিনিসিয়ুসের দুর্দান্ত গোলে ম্যাচে ফিরেছিল ঠিকই, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর ব্যবধান বাড়াতে পারেনি সেলেসাওরা। ম্যাচ শেষ হয় ১-১ গোলে।
এ নিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসে চতুর্থবারের মতো নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে জয়বঞ্চিত হলো ব্রাজিল।
সেই সঙ্গে সামনে এসেছে অস্বস্তিকর এক ইতিহাসও। পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ড্র করার পর কখনোই বিশ্বকাপ জিততে পারেনি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
এবারের আগে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে তিনবার ড্র করেছিল ব্রাজিল। ১৯৭৪ সালে যুগোস্লাভিয়ার সঙ্গে গোলশূন্য ড্র, ১৯৭৮ সালে সুইডেনের বিপক্ষে ১–১ এবং ২০১৮ সালে সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে ১–১ গোলে সমতা। এই তিন আসরের একটিতেও শিরোপা ছুঁতে পারেনি তারা।
১৯৭৪ বিশ্বকাপে ব্রাজিল শেষ করেছিল চতুর্থ হয়ে। ১৯৭৮ সালে তৃতীয় স্থান পেলেও ট্রফির দেখা মেলেনি। আর ২০১৮ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল নেইমারদের।
অন্যদিকে ব্রাজিলের পাঁচটি বিশ্বকাপজয়ী অভিযানের দিকে তাকালে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। ১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৭০, ১৯৯৪ ও ২০০২—প্রতিবারই প্রথম ম্যাচে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছিল সেলেসাওরা। পরে সেই আসরগুলোতেই শিরোপা জিতেছে তারা।
অবশ্য কাগজের পরিসংখ্যানে নয়, মাঠের পারফরম্যান্সেই ফলাফল নির্ধারিত হয়। এবারের আসরে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা কতদূর যেতে পারে এখন সেটাই দেখার বিষয়।
ড্র হওয়া ব্রাজিলের চার বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ
| আসর | প্রতিপক্ষ | ফলাফল |
| ২০২৬ | মরক্কো | ১–১ |
| ২০১৮ | সুইজারল্যান্ড | ১–১ |
| ১৯৭৮ | সুইডেন | ১–১ |
| ১৯৭৪ | যুগোস্লাভিয়া | ০–০ |

৮৮ বছর ধরে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে অপরাজিত ব্রাজিল
- ক্রীড়া ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ১১:৩০:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
ব্রাজিল একমাত্র দেশ, যারা বিশ্বকাপের ২৩টি আসরের প্রতিটিতে অংশগ্রহণ করেছে। তারা ১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৭০, ১৯৯৪ ও ২০০২ সালে রেকর্ড পাঁচবার শিরোপা জিতেছে। বিশ্বকাপ বরাবরই সেলেসাওদের জন্য সবচেয়ে বড় মঞ্চ এবং এমন এক ক্যানভাস, যেখানে তারা যেন শতাব্দী ধরে এক অনবদ্য শিল্পকর্ম তৈরি করেছে। তাদের এই চিত্তাকর্ষক গল্পটি কেবল ট্রফি উঁচিয়ে ধরার মাধ্যমে শুরু হয় না, বরং শুরু হয় উদ্বোধনী বাঁশির মাধ্যমে।
১৯৩০ সালে বিশ্বকাপের প্রথম আসরে ব্রাজিল অনেক প্রত্যাশা নিয়ে হাজির হয়েছিল, কিন্তু তাদের নিজেদের ফুটবল ফেডারেশনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে স্কোয়াডটি মূলত রিও দি জানেইরোভিত্তিক খেলোয়াড়দের নিয়ে গঠিত হয়েছিল।
যুগোস্লাভিয়ার বিপক্ষে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে তারা হারের স্বাদ পায়, যে ধাক্কাটি তাদের সামনের কঠিন পথের ইঙ্গিত দিচ্ছিল। চার বছর পর ১৯৩৪ বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচটি তাদের জন্য আরও বেশি নির্মম প্রমাণিত হয়।
শুরু থেকেই নকআউট পদ্ধতিতে আয়োজিত সেই টুর্নামেন্টে তারা স্পেনের কাছে ৩-১ গোলে হেরে যায়, যা ছিল সেই আসরে তাদের একমাত্র ম্যাচ। ফুটবলের এই পরাশক্তির জন্য এটি ছিল একটি হতাশাজনক মুহূর্ত। তবে এটিই ছিল বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে তাদের শেষ পরাজয়।
১৯৩৪ সালের সেই পরাজয়ের পর থেকে প্রথম ম্যাচটি হলুদ-সবুজ শিবিরের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে। এটি এমন এক দুর্গ, যেখানে তারা টানা ৮৮ বছর ধরে অপরাজিত রয়েছে। এই সময়ে খেলা নিজেদের ২০টি প্রথম ম্যাচের মধ্যে তারা জিতেছে ১৭টি, ড্র করেছে বাকি তিনটি।
১৯৭৪ সালের আসরে ব্রাজিল যুগোস্লাভিয়ার সাথে ০-০ গোলে ড্র করে এবং চার বছর পরের আসরে তারা আবারও আটকে যায়। সুইডেনের বিপক্ষে তাদের উদ্বোধনী ম্যাচটি ১-১ গোলে শেষ হয়। এছাড়া, ২০১৮ সালের আসরে তারা সুইজারল্যান্ডের সঙ্গেও একই ব্যবধানে ড্র করে।
বাকি সবগুলো ম্যাচে জিতেছে সেলেসাওরা। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে তাদের এই আধিপত্য সম্ভবত মেক্সিকোর বিপক্ষে সবচেয়ে ভালোভাবে ফুটে ওঠে। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে মেক্সিকোকে তিনবার হারিয়েছে তারা, যা অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি। আর এই তিন ম্যাচে তাদের সম্মিলিত গোলের ব্যবধান চোখে পড়ার মতো— ১১-০।
ব্রাজিলের সবশেষ ২০টি উদ্বোধনী ম্যাচের পরিসংখ্যান এমন একটি দলের ছবি তুলে ধরে, যারা কোনো বাধা মানতে নারাজ। আক্রমণাত্মক ঐতিহ্য তাদের শিরায় শিরায় প্রবাহিত। কারণ এই ম্যাচগুলোতে তারা মোট ৪৯টি গোল করেছে।
চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়াম গ্রুপ ‘সি’-এর একটি ব্লকবাস্টার উদ্বোধনী ম্যাচের জন্য প্রস্তুত। তাদের প্রতিপক্ষ মরক্কো আর অতীতের মতো দুর্বল নয়, বরং সেলেসাওদের চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত এক শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী, যারা গত ২০২২ সালের আসরে চতুর্থ স্থান পেয়েছিল।
এই লড়াইটি উভয় দলের জন্যই একটি নির্ধারক মুহূর্ত হতে পারে। তাদের মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যান সমানে-সমান। দুই দলই একটি করে জয় পেয়েছে।
ব্রাজিলের জয়টি এসেছিল ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ৩-০ গোলে। তবে মরক্কোর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স সামনের কঠিন লড়াইয়েরই ইঙ্গিত দেয়। ২০২৩ সালের মার্চে দুই দলের সাম্প্রতিকতম দেখায়, একটি প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল মরক্কো।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ব্রাজিলের ইতিহাস:
১৯৩০ উরুগুয়ে: ব্রাজিল ১-২ যুগোস্লাভিয়া
১৯৩৪ ইতালি: ব্রাজিল ১-৩ স্পেন
১৯৩৮ ফ্রান্স: ব্রাজিল ৬-৫ পোল্যান্ড
১৯৫০ ব্রাজিল: ব্রাজিল ৪-০ মেক্সিকো
১৯৫৪ সুইজারল্যান্ড: ব্রাজিল ৫-০ মেক্সিকো
১৯৫৮ সুইডেন: ব্রাজিল ৩-০ অস্ট্রিয়া
১৯৬২ চিলি: ব্রাজিল ২-০ মেক্সিকো
১৯৬৬ ইংল্যান্ড: ব্রাজিল ২-০ বুলগেরিয়া
১৯৭০ মেক্সিকো: ব্রাজিল ৪-১ চেকোস্লোভাকিয়া
১৯৭৪ পশ্চিম জার্মানি: ব্রাজিল ০-০ যুগোস্লাভিয়া
১৯৭৮ আর্জেন্টিনা: ব্রাজিল ১-১ সুইডেন
১৯৮২ স্পেন: ব্রাজিল ২-১ সোভিয়েত ইউনিয়ন
১৯৮৬ মেক্সিকো: ব্রাজিল ১-০ স্পেন
১৯৯০ ইতালি: ব্রাজিল ২-১ সুইডেন
১৯৯৪ যুক্তরাষ্ট্র: ব্রাজিল ২-০ রাশিয়া
১৯৯৮ ফ্রান্স: ব্রাজিল ২-১ স্কটল্যান্ড
২০০২ দক্ষিণ কোরিয়া/জাপান: ব্রাজিল ২-১ তুরস্ক
২০০৬ জার্মানি: ব্রাজিল ১-০ ক্রোয়েশিয়া
২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা: ব্রাজিল ২-১ উত্তর কোরিয়া
২০১৪ ব্রাজিল: ব্রাজিল ৩-১ ক্রোয়েশিয়া
২০১৮ রাশিয়া: ব্রাজিল ১-১ সুইজারল্যান্ড
২০২২ কাতার: ব্রাজিল ২-০ সার্বিয়া

ডিজিটাল নিরাপত্তায় এক ধাপ এগিয়ে নীলফামারী জেলা পুলিশ
- নীলফামারী প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ১১:২০:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ, অনলাইন জালিয়াতি দমন এবং নাগরিকদের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নীলফামারী জেলা পুলিশে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর ইউনিট ‘সাইবার সেল’ যুক্ত হতে যাচ্ছে। জেলা পুলিশের এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও জনবান্ধব পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, নীলফামারী জেলার পুলিশ সুপার মোঃ ফরহাদ হোসেন খাঁনের উদ্যোগে গঠিত হতে যাওয়া এ ইউনিট সাইবার অপরাধ তদন্ত, অনলাইন প্রতারণা শনাক্তকরণ এবং প্রযুক্তিভিত্তিক পুলিশি সেবার পরিধি সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নতুন সাইবার সেলের মাধ্যমে হারানো বা চুরি হওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধারে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করা হবে। একই সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর তদন্তের মাধ্যমে জটিল ও সূত্রবিহীন (ক্লু-লেস) মামলার রহস্য উদঘাটনেও কাজ করবে ইউনিটটি।
এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেক আইডি ব্যবহার, আইডি হ্যাকিং, ছবি বিকৃত করে হয়রানি, ব্ল্যাকমেইলিংসহ বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় আইনি ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করা হবে। নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত সাইবার হয়রানি প্রতিরোধেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সাইবার সেল অনলাইন জুয়া, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ও ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার করে সংঘটিত আর্থিক প্রতারণা প্রতিরোধে কাজ করবে। বিকাশ, নগদ, রকেটসহ বিভিন্ন ডিজিটাল লেনদেনে প্রতারণার অভিযোগ পেলে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, উসকানিমূলক প্রচারণা এবং বিভিন্ন ধরনের সাইবার অপরাধ নজরদারির আওতায় রাখতে ২৪ ঘণ্টা মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিং ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে এবং নাগরিকদের নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করতে নীলফামারী জেলা পুলিশের নতুন এই সাইবার সেল গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। একই সঙ্গে এটি জেলার সাধারণ মানুষের আস্থা ও সেবাপ্রাপ্তির নতুন দ্বার উন্মোচন করবে।

‘প্রধানমন্ত্রীর মন খারাপ! বিরোধী দল কেন বাজেটের সমালোচনা করে?
- ন্যাশনাল ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৯:১২:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
বিরোধীদলীয় চীফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্ববায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর মন খারাপ! বিরোধী দল কেন বাজেটের সমালোচনা করে?
শনিবার (১৩ জুন) চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদিঘী মাঠে ১১ দলীয় জোটের বিভাগীয় সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। নাহিদ বলেন, সমালোচনা করার কারণ আপনারা বাজেটে দুর্নীতির রাস্তা বন্ধ করেননি, লুটপাটের রাস্তা বন্ধ করেননি। তাই আমরা বাজেটের যৌক্তিক সমালোচনা করছি।
তিনি বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাতে পুনরায় প্রভাবশালী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আবারও ব্যাংক দখল শুরু হয়ে গেছে, এস আলমের হাতে আবারও ব্যাংক তুলে দেওয়া হচ্ছে।
বক্তব্যে বিদ্যুতের দাম নজিরবিহীনভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, বর্তমান বাজেটের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক পরিবর্তন সম্ভব হবে না। টেকসই পরিবর্তনের জন্য বাংলাদেশ পুলিশ, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং বিচার বিভাগে কার্যকর সংস্কার প্রয়োজন।
সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনাগুলোর প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের আকাশ ও মাটি এক নয়। এটার ফয়সালা ১৯৪৭, ১৯৭১ ও ২০২৪ সালে হয়ে গেছে। বাংলাদেশের মাটিতে আধিপত্যবাদ চলবে না।
তিনি সীমান্তে হত্যাকাণ্ড বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।

পেছালো যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি স্বাক্ষরের তারিখ
- আন্তর্জাতিক ডেস্ক। জনতার কন্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৯:০৭:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচিত সমঝোতা স্মারক আগামী রোববার (১৪ জুন) স্বাক্ষরিত হবে না বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘাই। তবে তিনি বলেছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এটি স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
আল জাজিরায় শনিবার (১৩ জুন) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচিত ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বাঘাই এ কথা বলেন।
তিনি জানান, ‘যে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক নিয়ে কাজ চলছে, তার মূল লক্ষ্য হলো যুদ্ধের অবসান ঘটানো। বর্তমান পর্যায়ে এতে পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে কোনো আলোচনা অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়নি।’
সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সম্ভাব্য সময় নিয়ে বাঘাই বলেন, ‘চুক্তি স্বাক্ষরের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। যদিও এটি আগামীকাল হচ্ছে না, তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে স্বাক্ষর হতে পারে এ সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘অন্য পক্ষের অবস্থানের কারণে এই প্রক্রিয়া সম্পর্কে যেকোনো মন্তব্য বা পূর্বাভাস দেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।’
এর আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ দাবি করেছিলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পথে রয়েছে এবং তা শিগগিরই স্বাক্ষরিত হতে পারে। তবে ইরানের সর্বশেষ বক্তব্যে চুক্তি স্বাক্ষরের সময়সূচি নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

পাঁচ মাসে নির্যাতনের শিকার সহস্রাধিক নারী-শিশু: হত্যা ১৮
- ন্যাশনাল ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৯:০০:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
মাত্র পাঁচ মাসে ১ হাজার ৩৫ জন নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ধর্ষণের হর হত্যা করা হয়েছে ১৮ জনকে। ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ২৫০ ও গণধর্ষণের শিকার হেয়েছেন ৬৫ জন। এছাড়াও বিভিন্ন কারণে ২৩৭ জন নারী ও কন্যা শিশুকে হত্যা করা হয়েছে এবং আত্মহত্যা করেছেন আরও ৬০ জন।
শনিবার (১৩ জুন) সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের আনোয়ারা বেগম-মুনিরা খান মিলনায়তনে ‘নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
সংলাপে নারী নির্যাতনের এই ভয়াবহ পরিসংখ্যান উঠে আসে। এতে নারী ও শিশু নির্যাতনের উদ্বেগজনক চিত্র, বিচারব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, সামাজিক সংকট এবং প্রতিরোধের উপায় নিয়ে আলোচনা করেন সরকারের নীতিনির্ধারক, সাবেক বিচারপতি, শিক্ষাবিদ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধি, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও নারী অধিকারকর্মীরা।
সংলাপে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম। স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু। কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষে লিখিত মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন লিগ্যাল এইড সম্পাদক রেখা সাহা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেন, দেশে নারী ও শিশু সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় আইন থাকলেও এর কার্যকর প্রয়োগ ও সামাজিক মানসিকতার পরিবর্তন এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।
তিনি বলেন, নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয় এবং সচেতনতার অভাব সহিংসতা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। নারী ও শিশুর অধিকার বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি কিশোর-কিশোরীদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আরও বেশি ক্লাব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার সমস্যা সমাজের গভীরে প্রোথিত। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফরেনসিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং মাদক নির্মূল জরুরি।
তিনি জানান, বিভাগীয় পর্যায়ে ডিএনএ ল্যাব স্থাপন এবং দেশের ৩৭টি মেডিকেল কলেজে ও পরবর্তীতে প্রতিটি জেলায় ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের (ওসিসি) কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নারী ও শিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্র, সমাজ এবং নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান মন্ত্রী।
সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ বলেন, সংবিধানে নারী-পুরুষের সমঅধিকারের নিশ্চয়তা থাকলেও বাস্তবে বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় ব্যাখ্যার কারণে সেই অধিকার সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, শিশুর জন্মের পর থেকেই নানা ধরনের বৈষম্যের সূচনা হয়, যা পরবর্তীতে সহিংস মানসিকতা তৈরিতে ভূমিকা রাখে। ধর্ষণ প্রতিরোধে দেশে পর্যাপ্ত আইন রয়েছে উল্লেখ করে তিনি আইনের সঠিক ও নিরপেক্ষ প্রয়োগ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।
গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, নারীর অধিকার খর্ব করার ক্ষেত্রে এখনো ধর্মকে ভুলভাবে ব্যবহার করা হয়। তিনি সাইবার বুলিং ও অনলাইন সহিংসতা বৃদ্ধির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কনটেন্ট নির্মাতা, ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারের সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানান। পাশাপাশি ধর্মীয় নেতাদের মাধ্যমে নারী নির্যাতনবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবারভিত্তিক মূল্যবোধ শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিশিষ্ট কলামিস্ট ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক বলেন, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা এখন জাতীয় সংকটে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, কিশোর গ্যাং, সামাজিক অবক্ষয় এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের অপব্যবহার সমাজে নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। কেবল আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে নয়, সাংস্কৃতিক চর্চা বৃদ্ধি এবং সামাজিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমেও এ সংকট মোকাবিলা করতে হবে।
উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের উপ-পুলিশ কমিশনার মোছা. লিজা বেগম বলেন, সহিংসতা প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম, কার্যকর আইন প্রয়োগ এবং মামলার সুষ্ঠু তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ভিকটিম-কেন্দ্রিক পুলিশিং জোরদার এবং প্রতিটি জেলায় ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। সাইবার সহিংসতা প্রতিরোধে জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক সচেতনতা কর্মসূচি গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক মো. কামাল উদ্দিন মজুমদার বলেন, একটি মানবিক ও সুস্থ সমাজে কোনো ধরনের সহিংসতার স্থান নেই। তিনি বলেন, রাষ্ট্র এককভাবে এ সমস্যা সমাধান করতে পারবে না; এজন্য সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ প্রয়োজন। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইতিবাচক ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম সোহাগ বলেন, অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের সংশোধনের বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, সহিংসতার জন্য কেবল ভুক্তভোগীকে দায়ী না করে অপরাধীর সামাজিক ও পারিবারিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করা জরুরি। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর নীতি গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এডুকেশনাল অ্যান্ড কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মেহজাবিন হক বলেন, পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা ও মাদকাসক্তির পাশাপাশি শৈশবকালীন অভিজ্ঞতা মানুষের আচরণ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সহিংসতা প্রতিরোধে মানবিক মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
বি-স্ক্যানের নির্বাহী পরিচালক সালমা মাহবুব বলেন, নারী নির্যাতন নিয়ে আলোচনায় প্রতিবন্ধী নারীদের বিষয়টি প্রায়শই উপেক্ষিত থাকে। তিনি বলেন, মাদক ও পর্নোগ্রাফির বিস্তার অপরাধপ্রবণতা বাড়াচ্ছে। পারিবারিক শিক্ষা, মানবিক মূল্যবোধ এবং অপরাধের শাস্তি নিশ্চিত করার মাধ্যমে সহিংসতা কমানো সম্ভব বলে তিনি মত দেন।
বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের কোষাধ্যক্ষ মেইনথিন প্রমীলা বলেন, সমাজের প্রান্তিক ও আদিবাসী নারীরা বহুমাত্রিক বৈষম্যের শিকার। নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে একাধিক মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি নারীদের জন্য নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, দেশ বর্তমানে নারী ও শিশু নির্যাতনের এক সংকটময় সময় অতিক্রম করছে। তিনি বলেন, শিশু ও নারীর জন্য নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। বিচারহীনতার সংস্কৃতি, অপরাধপ্রবণ রাজনীতি এবং সামাজিক অবক্ষয় দূর করতে ধারাবাহিক আন্দোলন ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি বিচারব্যবস্থার সংস্কার এবং সাইবার নিরাপত্তা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা নারীকে অধস্তন অবস্থানে রেখে সহিংসতার পরিবেশ তৈরি করছে। গত পাঁচ মাসে প্রায় এক হাজার নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হওয়ার তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি বিচারহীনতা ও সামাজিক নিরাপত্তাহীনতার গভীর সংকেত বহন করে। নারী নির্যাতন প্রতিরোধকে শুধু নারী আন্দোলনের দায়িত্ব হিসেবে না দেখে রাষ্ট্র ও নাগরিক সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানান এই নারী নেত্রী।

এবার ৫-০ গোলে আর্জেন্টিনাকে হারালো ব্রাজিল
- ক্রীড়া ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৮:২৬:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে এক প্রীতি ফুটবল ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে ৫-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে ব্রাজিল। স্থানীয় দুটি ফুটবল দল ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনা নামে খেলায় অংশগ্রহণ করছে এমন ঘোষণায় প্রচারণা চালানো হলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দলের বিপুলসংখ্যক সমর্থক উপস্থিত হয় ওই মাঠে। এতে ম্যাচটি ঘিরে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
শুক্রবার (১২ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টায় উপজেলার দেওয়ানগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। খেলা শুরুর আগেই মাঠ ও আশপাশের এলাকায় জড়ো হন বিভিন্ন বয়সী ফুটবলপ্রেমীরা।
নির্ধারিত ৬০ মিনিটের খেলায় শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলে ব্রাজিল। কয়েকটি সম্ভাবনাময় সুযোগ তৈরি করলেও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি আর্জেন্টিনা। ধারাবাহিক আক্রমণে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগকে চাপে ফেলে ব্রাজিল একের পর এক গোল আদায় করে নেয়। এতে ৫-০ গোলের ব্যবধানে বড় জয় পায় ব্রাজিল।
ব্রাজিলের হয়ে রহিদ দুটি গোল করেন। বাকি তিনটি গোল করেন তামরিজ, রিফাত ও সুমন। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে ব্রাজিল সমর্থকদের উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মাঠ।
ম্যাচ শেষে ব্রাজিলের হয়ে জোড়া গোল করা রহিদ বলেন, বিশ্বকাপ শুরু হওয়ায় আমরা স্থানীয়রাই আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল দুই দলে বিভক্ত হয়ে এ খেলার আয়োজন করেছি। মাঠে নেমে সবাই দারুণ খেলেছে। ব্রাজিল বিশ্বকাপেও ভালো করবে এবং এবারও শিরোপা জিতবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। আজকের ম্যাচে এখানে ভালো খেলেছি, তাই বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছি।
খেলা দেখতে আসা স্থানীয় ফুটবলপ্রেমী সোহেল মিয়া বলেন, মনে হয়েছে যেন ছোট পরিসরে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশের আসল ম্যাচ দেখছি। মাঠে বিপুলসংখ্যক দর্শক হয়েছে। খেলাটি উৎসবমুখর পরিবেশ অন্য মাত্রায় নিয়ে গেছে। সুন্দর খেলা হয়েছে।
খেলার আয়োজক ছিলেন ক্রীড়া সংগঠক খলিলুর রহমান নয়ন, আমিরুল ইসলাম আমির ও রকিকুল ইসলাম। আয়োজকদের পক্ষ থেকে খলিলুর রহমান নয়ন বলেন, বর্তমান সময়ে তরুণদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে পারলে মাদক, জুয়া ও নানা ধরনের সামাজিক অপরাধ থেকে তাদের দূরে রাখা সম্ভব। এমন ক্রীড়া আয়োজন যুবসমাজকে সুস্থ বিনোদনের পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও আমরা আশা করছি।
ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন আয়োজকরা।

কালিগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের শুভ উদ্বোধন
- রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৮:০৩:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

ব্রাজিল-মরোক্ক ম্যাচের ফলাফল জানালো সুপার কম্পিউটার
- ক্রীড়া ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৭:৫৪:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
ফিফা বিশ্বকাপে হেক্সা জয়ের মিশন নিয়ে মাঠে নামছে ব্রাজিল। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে গ্রুপ ‘সি’-এর বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচে ফুটবল পরাশক্তি ব্রাজিলের বিপরীতে খেলবে আফ্রিকার সবেচেয় শক্তিশালী দল মরক্কো।
এদিকে ম্যাচের আগে স্পোর্টস কাস্টিংয়ের সুপারকম্পিউটার বিশ্লেষণে ব্রাজিলকে স্পষ্ট ফেভারিট হিসেবে দেখানো হয়েছে। মডেলটির হিসাব অনুযায়ী, ব্রাজিলের জয়ের সম্ভাবনা ৫৫.৩ শতাংশ, যেখানে মরক্কোর জয়ের সম্ভাবনা মাত্র ১৯.২ শতাংশ। অন্যদিকে ড্র হওয়ার সম্ভাবনা ধরা হয়েছে ২৫.৪ শতাংশ।
বিশ্লেষণে সবচেয়ে সম্ভাব্য ফলাফল হিসেবে উঠে এসেছে ব্রাজিলের ১-০ গোলের জয়। এই স্কোরলাইনের সম্ভাবনা ১৪.৭ শতাংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া ২-০ ব্যবধানে ব্রাজিলের জয়ের সম্ভাবনাও উল্লেখযোগ্য।
নতুন কোচ কার্লো আনচেলত্তিরর অধীনে ব্রাজিলের আক্রমণভাগে আছেন তারকা ফুটবলার ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনিয়া, ইগরে থিয়াগো ও এন্দ্রিকের মতো তারকারা। তাদের উপস্থিতি ব্রাজিলকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
অন্যদিকে মরক্কোও সহজ প্রতিপক্ষ নয়। ২০২২ বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ে সেমিফাইনালে ওঠা দলটি এবারও আত্মবিশ্বাসী। দলের অন্যতম ভরসা আশরাফ হাকিমি ও সুফিয়ান আমরাবাত। তবে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের ফিটনেস নিয়ে শঙ্কা থাকায় মরক্কো কিছুটা চাপে রয়েছে।
সুপারকম্পিউটারের মতে, ম্যাচটিতে গোলসংখ্যা কম হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। ফলে ব্রাজিলের জয় এবং ২.৫ গোলের নিচে ম্যাচ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে শক্তিশালী পূর্বাভাস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সবশেষে পরিসংখ্যান ও সম্ভাবনার বিচারে ব্রাজিল এগিয়ে থাকলেও বিশ্বকাপের মঞ্চে চমক দেখানোর সামর্থ্য মরক্কোর রয়েছে। তবে সুপারকম্পিউটারের পূর্বাভাস বলছে, এই লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসতে পারে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল।

নুরকে আমরা নেতা বানাইছিলাম, তিনি আম্মা ডাকছিলেন হাসিনারে’
- ন্যাশনাল ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৭:৪৫:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
ডাকসুর সাবেক ভিপি ও প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন, যেখানে নুরের অতীত টেনে সমালোচনা করেছেন তিনি।
শনিবার সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে মনিরা শারমিন লেখেন, ‘নুরুল হক নুর, আমার সহযোদ্ধা যতবার বলেন জুলাই আন্দোলনের ছাত্রদের তারা তৈরি করেছে, ততবার আমার মনে পড়ে পুরনো দিনের কথা। যখন নুরকে আমরা নেতা বানাইছিলাম, কিন্তু তিনি “আম্মা” ডাকছিলেন হাসিনারে।’
জাতীয় নাগরিক পার্টির অঙ্গ সংগঠন ‘জাতীয় নারীশক্তি’-র কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মনিরা শারমিন জামায়াত জোটের পক্ষ থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পেয়েছিলেন। তবে, আইনি জটিলতায় তার প্রার্থিতা বাতিল হয়।
২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে কবি সুফিয়া কামাল হল সংসদের জিএস নির্বাচিত হয়েছিলেন মনিরা শারমিন। সেবারের নির্বাচনেই ভিপি হয়েছিলেন নুরুল হক নুর।

সিরাজগঞ্জে ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন
- নিজস্ব প্রতিবেদক। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৭:০৫:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত “৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ” বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সিরাজগঞ্জে আনুষ্ঠানিকভাবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে সিরাজগঞ্জ কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম। এ সময় শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভিন্ন গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও সিরাজগঞ্জ কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ শাহাদত হুসেইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) গণপতি রায়, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু, মুক্তিযোদ্ধা দলের আহ্বায়ক আজিজুর রহমান দুলাল প্রমূখ।
৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষেরোপণ করার ঘোষাণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী প্রতিটি জেলার জন্য পৃথকভাবে বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় সিরাজগঞ্জে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। সেই সঙ্গে এদিন শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রায় আড়াই হাজার গাছ বিতরণ করা হয়েছে।

ফুলবাড়ীতে ২৯ বিজিবির অভিযান: ভারতীয় ট্যাবলেট ও ইস্কফ উদ্ধার
- হাসান আলী হাকিমপুর দিনাজপুর প্রতিনিধি: জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৬:২৭:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল কোচিংগামী শিক্ষার্থীর
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ
- আপডেট টাইম : ০৬:১৮:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
ঠাকুরগাঁওয়ে কোচিং শেষে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন এক শিক্ষার্থী। শনিবার (১৩ জুন) সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে রাণীশংকৈল উপজেলার পৌর শহরের বন্দর এলাকার কুয়েত মসজিদ সংলগ্ন পাকা সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শিবা রাণী (১৫) ওই এলাকার গোবিলাল ও সুমি রানীর একমাত্র সন্তান।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কোচিং শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে উপজেলার ওমরাডাঙ্গী সড়কের কুয়েত মসজিদ ও স্থানীয় জামায়াত অফিস সংলগ্ন এলাকায় রাস্তা পারাপারের সময় শিবা রাণী একটি দ্রুতগতির সেলোমেশিনচালিত ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, ট্রাকটির গতি এতটাই বেশি ছিল যে শিবা রাণী রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে যায়। মাথায় মারাত্মক আঘাত লাগায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন ঘাতক যানটিকে আটকের চেষ্টা করেন। এসময় চালক পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে এলাকাবাসি তাক আটক করে বেঁধে রাখে। এ নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে রাণীশংকৈল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম শুরু করে।
আটক ট্রাকচালকের নাম বাবলু হোসেন। তিনি উপজেলার নন্দুয়ার ইউনিয়নের বলিদ্বারা গ্রামের রফিজ উদ্দিনের ছেলে বলে পরিচয় দিয়েছেন।
নিহতের মা সুমি রানী বলেন, সকালে তো হাসিমুখে কোচিংয়ে গেল, আমার মেয়েটা এভাবে লাশ হয়ে ফিরে আসবে, কখনো ভাবিনি।
এদিকে মেয়ের নিস্তব্ধ মুখের দিকে তাকিয়ে নির্বাক হয়ে বসে ছিলেন বাবা। যেন মুহূর্তের মধ্যেই তাদের সমস্ত স্বপ্ন, আশা আর ভবিষ্যৎ ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। শিবার মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো এলাকার মানুষের হৃদয়ে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা সড়কে নিরাপত্তা জোরদার, বেপরোয়া যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
রাণীশংকৈল থানার ওসি আমানুল্লাহ আল বারী জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেম নিয়ে ব্রাজিলের মিডিয়ায় বিশেষ প্রতিবেদন
- ক্রীড়া ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৬:১২:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
বিশ্বকাপ ফুটবল শুরু হতে না হতেই শুরু হয়েছে ফুটবল উন্মাদনা। তবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের হেক্সা মিশনকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ বাংলাদেশে যে তুমুল উদ্দীপনা, তা এবার বেশ বড়সড় জায়গা করে নিয়েছে খোদ ব্রাজিলের মূলধারার সংবাদমাধ্যমে। হাজার হাজার মাইল দূরের এক দেশের মানুষ কীভাবে সেলেসাওদের রঙে নিজেদের রাঙিয়ে তুলেছে, তা নিয়ে রীতিমতো বিস্ময় ও মুগ্ধতা প্রকাশ করেছে ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম গি গ্লোবো।
রোববার ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচকে সামনে রেখে বাংলাদেশের এই ‘সবুজ-হলুদ’ জ্বর এখন লাতিন আমেরিকার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
ব্রাজিলিয়ান গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, কীভাবে সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে বাংলাদেশের অলিগলি, ছাদ আর রাস্তাঘাট ব্রাজিলের পতাকায় ছেয়ে যাওয়ার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। লাতিন আমেরিকার সাংবাদিকেরা অবাক হয়ে দেখছেন, ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিকভাবে সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং ফিফা র্যাংকিংয়ে ১৮১তম অবস্থানে থাকা ১৭ কোটিরও বেশি জনসংখ্যার এই দেশটিতে নিজেদের ফুটবল সাফল্য না থাকলেও, ফুটবল নিয়ে আবেগ কতটা আকাশচুম্বী
ব্রাজিলিয়ানদের কাছে এটি অত্যন্ত চমকপ্রদ যে, বিশ্বকাপের সময় বাংলাদেশের মানুষ নিজেদের লাল-সবুজ পতাকার পাশাপাশি ব্রাজিলের সবুজ-হলুদ (কিংবা আর্জেন্টিনার আকাশী-সাদা) রঙে পুরো দেশকে মুড়িয়ে দেয়।
ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যমগুলো এই ভালোবাসার পেছনের ইতিহাসও তাদের পাঠকদের সামনে তুলে ধরেছে। সেখানে বলা হয়েছে, গত শতাব্দীর ষাটের দশকে পেলে-গারিঞ্চাদের জাদুকরী ফুটবল যখন বিশ্ব জয় করছিল, তখন থেকেই বাংলাদেশে এই প্রেমের শুরু। পরবর্তীতে আশির দশকে জিকো-সক্রেটিসদের যুগে রঙিন টেলিভিশনের আগমন এই উন্মাদনাকে স্থায়ী রূপ দেয়। বাংলাদেশিদের এই অবিশ্বাস্য ফুটবল আবেগকে ফ্রেমবন্দি করে গ্লোবোপ্লেতে একটি প্রামাণ্যচিত্রও মুক্তি পেয়েছে, যার নাম ‘ঢাকা ভাইব্রা – ফুটবল অ্যাডভেঞ্চারস ইন বাংলাদেশ।’
এই প্রামাণ্যচিত্রের পরিচালক ও অস্কার মনোনীত চলচ্চিত্রের সাথে যুক্ত রাফায়েল বারগামাস্কি বাংলাদেশের মাটিতে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানাতে গিয়ে ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘একজন ব্রাজিলিয়ান হিসেবে ঢাকায় গিয়ে আমি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলাম। বাংলাদেশিরা যেভাবে আমাদের ফুটবল সংস্কৃতি, আমাদের খেলোয়াড় আর আর্জেন্টিনার সাথে আমাদের ঐতিহ্যবাহী চিরবৈরিতাকে পুরোপুরি নিজেদের করে নিয়েছে, তা সত্যিই অসাধারণ।’
রাজধানী ঢাকার দেয়ালে দেয়ালে পেলে, রোনালদো ও নেইমারদের বিশাল সব দেয়ালচিত্রের কথাও বেশ গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার করছে তাদের সংবাদমাধ্যম।

পাকিস্তানে সামরিক অভিযানে ২১ সন্ত্রাসী নিহত, টার্গেটে শীর্ষ জঙ্গিরা
- আন্তর্জাতিক ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৬:০৬:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার উত্তর ওয়াজিরিস্তান জেলার মিরানশাহ এলাকায় গত তিন দিনে পরিচালিত গোয়েন্দা অভিযানে ২১ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আইএসপিআর।
শনিবার (১৩ জুন) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইএসপিআর জানায়, উত্তর ওয়াজিরিস্তানে চলমান ধারাবাহিক গোয়েন্দা অভিযানগুলোর অংশ হিসেবে নিরাপত্তা বাহিনী মিরানশাহ ও আশপাশের এলাকায় একাধিক সন্ত্রাসী আস্তানায় অভিযান চালায়। খবর জিও নিউজের।
বিবৃতিতে বলা হয়, তীব্র গোলাগুলির পর আরও ২১ সন্ত্রাসী নিহত হয়। নিহতদের মধ্যে চারজন শীর্ষ সন্ত্রাসী নেতা রয়েছেন। তারা হলেন খালিদ রাজা ওরফে সালার, মুফতুন, মুসা এবং ইমরান ওরফে আয়ান।
আইএসপিআর জানায়, নিহত এসব নেতার বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের হত্যাসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল। তারা দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অত্যন্ত ওয়ান্টেড ছিলেন।
এর আগে গত সপ্তাহে একই এলাকায় পরিচালিত আরেকটি অভিযানে ২৭ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছিল বলে জানায় সামরিক বাহিনী। ফলে সাম্প্রতিক এসব অভিযানে মোট ৪৮ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযানে নিহতদের কাছ থেকে বিপুল সংখ্যক অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়। আইএসপিআরের তথ্য অনুযায়ী, এসব সন্ত্রাসী বিভিন্ন হামলা এবং নিরীহ মানুষকে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এলাকায় লুকিয়ে থাকা সন্ত্রাসীদের নির্মূলে তল্লাশি ও নিরাপত্তা অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জাতীয় কর্মপরিকল্পনার আওতায় অনুমোদিত ‘আজম-ই-ইস্তেহকাম’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পূর্ণ গতিতে চালিয়ে যাওয়া হবে।
এদিকে দেশটিতে চলমান সন্ত্রাসবিরোধী তৎপরতার অংশ হিসেবে সম্প্রতি আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকাতেও অভিযান চালানো হয়েছে। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানান, সাম্প্রতিক কয়েকটি সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে জড়িত পরিকল্পনাকারীদের আস্তানা লক্ষ্য করে সীমান্ত এলাকায় নির্ভুল ও পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়। এতে অন্তত ২৬ জন সশস্ত্র সদস্য নিহত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

১৫ বছর পার, তবুও বকেয়া পাননি গ্রামীণফোনের কর্মীরা
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ
- আপডেট টাইম : ০৬:০১:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
দেড় দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও মেলেনি শ্রমিকের ন্যায্য প্রাপ্য অর্থ। শ্রমিক লভ্যাংশ তহবিলের (ডব্লিউপিপিএফ) ৫ শতাংশ বকেয়া পাওনার দাবিতে আবারও রাজপথে নেমেছেন দেশের শীর্ষ মুঠোফোন অপারেটর গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মীরা।
তাদের অভিযোগ- দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে প্রায় চার হাজার কর্মী ও তাদের পরিবারকে এই লভ্যাংশ থেকে বঞ্চিত করে রেখেছে গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়তলীতে গ্রামীণফোনের আঞ্চলিক কার্যালয়ের সামনে ‘গ্রামীণফোন ৫ শতাংশ বিলম্ব বকেয়া আদায় ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে এক মানববন্ধন ও গণ-অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়। এই কর্মসূচিতে প্রতিষ্ঠানের অর্ধশতাধিক সাবেক কর্মী অংশ নেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া সাবেক কর্মীদের অনেকের হাতে ছিল দাবি-সংবলিত প্ল্যাকার্ড। কেউ কেউ বলছিলেন দীর্ঘ অপেক্ষার কথা, কেউ বলছিলেন জীবনের অপূর্ণ স্বপ্নের কথা।
সাবেক এক কর্মী আহসানুল হক বলেন, আমি ১৫ বছর গ্রামীণফোনে কাজ করেছি। প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে নিজের শ্রম ও মেধা দিয়েছি; কিন্তু অবসরের পরও প্রাপ্য অর্থের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। আদালতের আইনি প্রক্রিয়াও শেষ হয়েছে। এখন আর বিলম্বের কোনো কারণ দেখি না।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার কারণে বছরের পর বছর তাদের পাওনা আটকে রাখা হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে অনেক সাবেক কর্মী মারা গেছেন। কেউ কেউ অসুস্থতা ও আর্থিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
চট্টগ্রামের সমন্বয়কারী সুলেমান মেহেদী বলেন, প্রায় চার হাজার সাবেক কর্মী ও তাদের পরিবার এই অর্থ পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। আমরা সংঘাত নয়, আলোচনার মাধ্যমে একটি সম্মানজনক সমাধান চাই।

শফিকুল হত্যার জট খুলল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ
- আপডেট টাইম : ০৫:৫৬:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
নওগাঁয় পুরাতন মোবাইল ও ইলেকট্রনিক্স পণ্য ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুজনকে গ্রপ্তার করেছে পুলিশ। এসময় দেশীয় অস্ত্রসহ নিহত শফিকুলের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। হত্যাকাণ্ডে জড়িত আরও একজন পলাতক আছে।
নিহত শফিকুল ইসলাম জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলার তিলেকপুর গ্রামের আজিজার রহমানের ছেলে। গ্রেপ্তার দুজন হলেন- নওগাঁ সদর উপজেলার ভিমপুর পাঠাকাটা এলাকার সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে জয়নুল (৩৫) ও জেলার মান্দা উপজেলার সতীহাট শ্রীরামপুর এলাকার এরশাদ আলীর ছেলে আশরাফুল (২৬)।
শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে সদর মডেল থানায় সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। এর আগে শুক্রবার (১২ জুন) পৌর শহর ও মান্দা উপজেলায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম, গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সদর উপজেলার বারমাসি বিলে কচুরিপানার নিচ থেকে শফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত শফিকুল পুরাতন মোবাইল ও ইলেকট্রনিক্স পণ্য ব্যাবসা করতেন। লোভ এবং ব্যবসায় কিছুটা লাভবান হওয়ায় ঈর্ষান্বিত হয়ে তার পূর্বপরিচিত জয়নুল, আশরাফুলসহ তিনজন গত ৭ জুন মান্দার সুতিহাটে শফিকুলকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৮ জুন শফিকুলকে ভীমপুর কলেজ মোড়ে আসতে বললে সেখান থেকে দুটি মোটরসাইকেলে করে বারোমাসি বিলের পার ঘাঁটি ব্রিজে যায় তারা। সেখানে হঠাৎ করে পেছন থেকে একজন পলাতক আসামি রশি দিয়ে শফিকুলের গলায় টান দেয়। আসামি জয়নুল হাত ও আশরাফুল পা চেপে ধরে। তারপর সে নিস্তেজ হয়ে গেলে তার মৃত্যু নিশ্চিত করতে তারা তিনজনে পানিতে ডুবিয়ে কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে রেখে মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, মরদেহ উদ্ধারের পর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্তে নামে পুলিশের একটি টিম। তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকা জয়নুলকে প্রথমে শহরের একটি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে মান্দা উপজেলা থেকে আশরাফুলকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর জয়নুল এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা স্বীকার করে। হত্যা পর শফিকুলের কাছে থাকা ১৫০০ টাকা তিনজন ভাগাভাগি করে শফিকুলের মোটরসাইকেল নিয়ে যায়।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, জয়ব্রত পাল ও সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানসহ পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

নাঈমকে নিয়ে ঘটনার তীব্র নিন্দা জানালেন তামিম
- ক্রীড়া ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৫:৫০:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
চট্টগ্রামে জাতীয় দলের স্পিনার নাঈম হাসানের ওপর পুলিশি নির্যাতনের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল। অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার পর ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থার দাবিতে শক্ত অবস্থান নিয়েছে বিসিবি।
শুক্রবার রাতে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ খেলে চট্টগ্রামে নিজের বাসায় ফেরার পথে লালখান বাজার এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের হাতে লাঞ্ছিত ও মারধরের শিকার হন নাঈম। ঘটনাটি জানার পরপরই গভীর রাতে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেন খোদ বিসিবি সভাপতি।
এ প্রসঙ্গে ফেসবুকে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল তার প্রতিক্রিয়ায় জানান, ‘নাঈম হাসানের সঙ্গে গত রাতে যা হয়েছে, কোনোভাবেই তা গ্রহণযোগ্য নয়। রাতে নাঈম আমাকে ফোন করার পর থেকে তাৎক্ষণিকভাবে যা যা করা দরকার, করার চেষ্টা করেছি আমি ও অন্য বোর্ড পরিচালকরা। সংশ্লিষ্ট সব জায়গায় আমরা কথা বলছি, নাঈম ও তার পরিবারের সঙ্গেও নিবিড় যোগাযোগ রাখছি।’
ক্রিকেটারদের সুরক্ষায় বোর্ডের অনড় অবস্থানের কথা জানিয়ে বিসিবি সভাপতি আরও বলেন, ‘বিসিবির পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে আজকে সকালেই। এরপর আরো যা যা করণীয় আছে, সবকিছু করব আমরা। নাঈম ও সব ক্রিকেটারের পাশে আমরা আছি সবসময়।’
নাঈমের হেনস্তার প্রতিবাদ জানিয়েছেন মুশফিকুর রহিম, তাসকিন আহমেদরাও। তাসকিন নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে লিখেছেন, ‘জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাইম হাসানের সঙ্গে পুলিশের এমন ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।’ ফেসবুকে মুশফিক লিখেছেন, ‘নাঈমের সঙ্গে যা ঘটেছে, তা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।যা ঘটেছে, তা আমাকে ব্যথিত ও লজ্জিত করেছে। একজন নাগরিক হিসেবে, একজন বাংলাদেশি হিসেবে আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। নাঈম, আমরা তোমার পাশে আছি।’
নাঈমের হেনস্তার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চেয়ে টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন দাস ফেসবুকে এক পোস্টে লিখেছেন, ‘মাথা উঁচু রাখো নাঈম। তুমি একজন ভালো মানুষ। নাঈম হাসানের সঙ্গে যা ঘটেছে, তা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। খুবই হৃদয়বিদারক এটা।’
শনিবার সকালে দেওয়া বিসিবির আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই নজিরবিহীন ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াবও পৃথক বিবৃতিতে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার দাবি তোলে।
বিসিবি সভাপতির এমন শক্ত তৎপরতার মধ্যেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঘটনার সত্যতা পেয়ে খুলশী থানার এক উপপরিদর্শকসহ (এসআই) তিন পুলিশ সদস্যকে ইতিমধ্যে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান।

কক্সবাজার সফরে সাফারি পার্ক পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ
- আপডেট টাইম : ০৫:৪৩:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে কক্সবাজারের ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন করেছেন।
শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে পিএমখালি ইউনিয়নের পাতলী খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন শেষে ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন করেন তারা। এসময় পার্কের ভেতরের বিভিন্ন জায়গা ঘুরে ঘুরে দেখেন এবং প্রধানমন্ত্রী খুবই উচ্ছ্বসিত ছিলেন।
এ সময় সাফারি পার্কের মূল ফটকের সামনে একটি নাগলিঙ্গম গাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি সাফারি পার্কের স্মারক বইয়ে স্বাক্ষর করেন। একইসঙ্গে স্মারক বইয়ে স্বাক্ষর করেন ডা. জুবাইদা রহমানও।
এর আগে ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এবং প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।
এর আগে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কক্সবাজার বিমানবন্দরে নেমে মুষল বৃষ্টির মধ্যে নিজেই গাড়ি চালিয়ে খাল খনন কর্মসূচির স্থলে যান। পাশের আসনে বসান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে।
এরপর সেখান থেকে আবারও নিজে গাড়ি চালিয়ে ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে আসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এ সময় পুরো রাস্তাজুড়ে হাজার হাজার স্থানীয় সাধারণ জনগণ এবং দলীয় নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ফুল ছিটিয়ে ও হাত নেড়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান এবং স্লোগান দিতে থাকেন।
দীর্ঘ সমুদ্রসৈকতের জন্য পরিচিত কক্সবাজারে বহু পর্যটক গেলেও জেলার অন্যতম আকর্ষণ এই সাফারি পার্ক। এটি দেশের প্রথম সাফারি পার্ক। পাহাড়, বন, জলাধার আর উন্মুক্ত পরিবেশে বিচরণকারী শত শত প্রাণী নিয়ে গড়ে উঠেছে এই অনন্য বন্য প্রাণীর জগৎ।
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারায় অবস্থিত পার্কটি। চট্টগ্রাম শহর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ১০৭ কিলোমিটার। কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ৪৭ কিলোমিটার। এই সাফারি পার্কের যাত্রা শুরু ১৯৮০-৮১ অর্থবছরে। তখন ৪২ দশমিক ৫ হেক্টর বনভূমি নিয়ে এখানে একটি হরিণ প্রজননকেন্দ্র গড়ে তোলে বন বিভাগ। পরে দেশের প্রথম সাফারি পার্ক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

সমাধান কি হাসপাতাল বন্ধ, নাকি জবাবদিহি নিশ্চিত করা?
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ
- আপডেট টাইম : ০৫:৩৪:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
সম্প্রতি রাজধানীর মগবাজারে আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স বাতিলের কথা এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস। নবজাতকদের এই মর্মান্তিক মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক।
এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। তবে একইসঙ্গে একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে আসে- ভুল বা অপরাধ কী কোনো প্রতিষ্ঠান করে, নাকি তা করে ব্যক্তি?
বাস্তবতা হলো, কোনো প্রতিষ্ঠান ভুল বা অপরাধ করে না; বরং ভুল বা অপরাধ করে ব্যক্তি- চিকিৎসক, কর্মকর্তা, কর্মচারী কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। একটি হাসপাতাল কোনো সাধারণ প্রতিষ্ঠান নয়; এটি মানুষের জীবন, স্বাস্থ্যসেবা, আস্থা, আশা এবং কর্মসংস্থানের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। একটি হাসপাতাল গড়ে ওঠে দীর্ঘ সময়, বিপুল বিনিয়োগ, দক্ষ জনবল, ত্যাগ এবং সামাজিক আস্থার ভিত্তিতে। বিশেষত যেসব প্রতিষ্ঠান তুলনামূলক কম খরচে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে সাধারণ মানুষের নির্ভরতার জায়গা হয়ে উঠেছে, সেগুলোর কার্যক্রম হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ১৯৯৭ সালে যাত্রা শুরু করে এবং সময়ের পরিক্রমায় এটি একটি বৃহৎ সেবামূলক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। একই প্রাঙ্গণে অবস্থিত আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজ ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ওই বছরের ডিসেম্বর থেকে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করে। প্রতিষ্ঠানটিতে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তি হয়। বর্তমানে সেখানে কয়েকশত শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। পাশাপাশি হাসপাতালটিতে বিপুলসংখ্যক চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। এ হাসপাতালে শালীনতা ও ধর্মীয় সংবেদনশীলতার প্রতি গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়। মা ও শিশু স্বাস্থ্যে বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা, মেডিকেল শিক্ষা কার্যক্রম এবং ২৪ ঘণ্টা জরুরি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
বাংলাদেশের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাজনিত মৃত্যু বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা নতুন নয়। বিভিন্ন সময়ে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাসপাতালে ভাঙচুর, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলা কিংবা উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে দেখা যায়। ফলে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান দিন দিন অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়ে পরিণত হচ্ছে। এ বাস্তবতায় স্বাস্থ্যখাতে জবাবদিহিতা যেমন জরুরি, তেমনি সেবার পরিবেশ ও ধারাবাহিকতা রক্ষা করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এদেশের বাস্তবতায় সরকারি হাসপাতালগুলো এখনো জনসংখ্যার তুলনায় অপ্রতুল এবং মৌলিক স্বাস্থ্যসেবাও নিশ্চিত করতে পারছে না। এ অবস্থায় বেসরকারি খাত দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে কাজ করছে। সরকারের একক প্রচেষ্টায় দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত কঠিন। ফলে অযাচিত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে স্বাস্থ্যখাতে বেসরকারি বিনিয়োগ ও অংশগ্রহণকে নিরুৎসাহিত করা হলে তার দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে অপেক্ষাকৃত কম খরচে চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী হাসপাতালগুলোর কার্যক্রম হঠাৎ স্থগিত হলে সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে প্রত্যাশা- আইনের প্রয়োগ যেন কখনোই কোনো বিশেষ প্রতিষ্ঠান, গোষ্ঠী বা শ্রেণির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। বলা বাহুল্য, আমাদের সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। তাই শুধু স্বাস্থ্যখাতেই নয়, শিক্ষা, বাজার নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি দমনসহ সব ক্ষেত্রেই আইনের নিরপেক্ষ, সমান ও বৈষম্যহীন প্রয়োগ নিশ্চিত হওয়া অপরিহার্য। মনে রাখতে হবে, আইনের প্রয়োগ যদি বেছে বেছে বা বৈষম্যমূলকভাবে করা হয়, তবে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে এবং জনমনে অসন্তোষ সৃষ্টি হতে পারে।
সর্বোপরি, আদ-দ্বীন হাসপাতালে নবজাতকের মৃত্যুর মর্মান্তিক ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। তবে কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তি বিশেষের সম্ভাব্য গাফিলতির দায়ে দীর্ঘদিনের সেবামূলক একটি হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়া বা এর লাইসেন্স বাতিল করা কোনো অবস্থাতেই ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত হতে পারে না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রস্তাবিত পদক্ষেপ পরিস্থিতির তুলনায় অধিক জটিল বলে মনে হচ্ছে এবং বিদ্যমান পরিস্থিতিতে এটি কোনো কার্যকর সমাধান বা ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে বলেও মনে হয় না।
আমাদের দেশে যেখানে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার প্রাপ্যতা এখনো সীমিত, সেখানে একটি কার্যকর হাসপাতালের সেবা হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধরনের ভোগান্তির কারণ হতে পারে। তাই তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতে হাসপাতাল বন্ধ নয়; বরং ন্যায়বিচার ও জনস্বার্থে প্রতিষ্ঠানটির স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম অব্যাহত রাখাই সমীচিন বলে প্রতীয়মান হয়। প্রশ্ন থেকেই যায়- আবেগতাড়িত ও অদূরদর্শী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে, কিংবা আইনের নিরপেক্ষ ও সর্বজনীন প্রয়োগ নিশ্চিত না করে, এদেশে নিরাপদ, মানবিক ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা ও হাসপাতাল ব্যবস্থা কী গড়ে তোলা সম্ভব?
প্রফেসর ড. ফরিদ আহমদ সোবহানী
ভাইস চ্যান্সেলর
ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি, ঢাকা

সেনবাগে পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ ৩ আসামি গ্রেফতার
- মো.ইসমাইল হোসেন, নোয়াখালী ব্যুরো প্রধান। জনতার কণ্ঠ.কম।
- আপডেট টাইম : ০৫:২৬:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

বিশ্বকাপে নামার আগে চুরির শিকার ইংল্যান্ড দল, ফুটবলারদের বুট উধাও
- ক্রীড়া ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৫:১৯:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
আসন্ন বিশ্বকাপ ফুটবলের মহারণ শুরু হওয়ার আগেই বড়সড় ধাক্কা খেল ইংল্যান্ড শিবির। যুক্তরাষ্ট্রের বেইস ক্যাম্প ক্যানসাস সিটিতে পৌঁছানোর আগেই চুরির শিকার হয়েছে থমাস টুখেলের দল। খোয়া গেছে ফুটবলারদের অনুশীলনের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম।
শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে কোচ থমাস টুখেল ও তার শিষ্যদের ক্যানসাস সিটিতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তাদের আগমনের আগেই সব সরঞ্জাম বেইস ক্যাম্পে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এফএ)।
কিন্তু ক্যানসাস সিটির ‘সোয়োপ সকার ভিলেজ’ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে যাওয়ার পথে সরঞ্জাম বহনকারী কয়েকটি গাড়িতে হামলা চালায় চোরেরা। গাড়িগুলোর একাংশ ভেঙে ভেতর থেকে মালামাল লুট করা হয়।
ঠিক কী কী সরঞ্জাম চুরি হয়েছে তা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারেনি এফএ। তবে প্রাথমিকভাবে আশঙ্কা করা হচ্ছে অনুশীলনের জন্য নির্ধারিত অফিশিয়াল ফুটবল (বল), খেলোয়াড়দের বুট, অনুশীলনে ব্যবহৃত অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী।
শুক্রবার (১২ জুন) রাতে ঘটনার খবর পেয়েই স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারা দ্রুত সোয়োপ সকার ভিলেজে ছোটেন এবং তদন্ত শুরু করেন। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিকভাবে এফএ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। চুরির ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে ইতোমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বুধবার (১৭ জুন) বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে এবারের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে থ্রি-লায়ন্সরা।

ভূমিকম্পে কাঁপল ইরাক-ইরান সীমান্ত অঞ্চল, প্রভাব মায়সানেও
- আন্তর্জাতিক ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৫:০৮:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
ইরাক-ইরান সীমান্তবর্তী এলাকায় শনিবার সকালে একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এর কম্পন ইরাকের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের মায়সান প্রদেশজুড়ে টের পান স্থানীয় বাসিন্দারা।
ভূমিকম্পটি স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৫২ মিনিটে ইরানের দেহলোরান শহরের কাছে আঘাত হানে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কিছু এলাকায় কম্পন বেশ শক্তিশালী ছিল, আবার কোথাও তা তুলনামূলকভাবে হালকা অনুভূত হয়।
তবে এখন পর্যন্ত ভূমিকম্পের মাত্রা সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি ইরাকের আবহাওয়া ও ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ কর্তৃপক্ষ।
এ ঘটনায় কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
ইরাকের ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত এপ্রিল মাসে দেশটিতে ও এর সীমান্তবর্তী এলাকায় মোট ৩৬টি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছিল। এর মধ্যে ১৬টি ইরাকের ভেতরে এবং ২০টি সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সংঘটিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর স্টিয়ারিং হাতে, যাত্রী আসনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ
- আপডেট টাইম : ০৪:৫৯:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কক্সবাজার বিমানবন্দরে অবতরণের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে পাশে বসিয়ে নিজেই গাড়ি চালিয়ে কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন। কর্মসূচি শেষেও নিজে গাড়ি চালিয়ে ডুলাহাজারার সাফারি পার্কে তিনি।
শনিবার (১৩ জুন) সকাল ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে কক্সবাজারে পৌঁছান তিনি। বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার পর চালকের আসনে বসে পাতলী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানস্থলের উদ্দেশে রওনা দেন প্রধানমন্ত্রী।
সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানসহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন- পানিসম্পদ মন্ত্রী শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল, শাহজাহান চৌধুরীসহ স্থানীয় প্রশাসন ও দলীয় নেতারা।
দিনব্যাপী এ সফরে প্রধানমন্ত্রী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন, পেকুয়া পৌরসভা ও মাতামুহুরী উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, জনসভা ও সুধী সমাবেশসহ একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।
সব কর্মসূচি শেষে রাতে তিনি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে কক্সবাজার ত্যাগ করবেন।

প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হলো যুবদল নেতা মাসুদকে
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ
- আপডেট টাইম : ০৪:৫২:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ নামের এক যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
শনিবার (১৩ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার পাহাড়তলী চৌমুহনী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। তিনি রাঙ্গুনিয়ার বেতাগী এলাকার মৃত খালেদ চৌধুরীর ছেলে। আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বেতাগী ইউনিয়ন থেকে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দুপুরে রাউজানের পাহাড়তলী চৌমুহনীতে অবস্থানকালে মাসুদকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে দুর্বৃত্তরা। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। এলাকাবাসীর ধারণা, বালুর ব্যবসা নিয়ে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।
হত্যাকাণ্ডের খবর রাঙ্গুনিয়া ও রাউজানে ছড়িয়ে পড়লে দুই উপজেলার যুবদল নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ঘটনার প্রতিবাদে কাপ্তাই সড়কের ইছাখালী (রাঙ্গুনিয়া) ও পাহাড়তলী (রাউজান) এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করেন বিক্ষুব্ধ কর্মী-সমর্থকরা। দুপুর ১টার পর থেকে কাপ্তাই সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
বিক্ষুব্ধ জনতা জানান, এ জঘন্য হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন ও সড়ক অবরোধ অব্যাহত থাকবে। তবে মানবিক কারণে শুধুমাত্র অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি সেবার যানবাহনগুলো ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।
রাউজান থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যার খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কাপ্তাই সড়কের দুই উপজেলার সীমান্ত এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ভিডিও বিতর্কে পদ হারালেন নারী প্যানেল চেয়ারম্যান
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ
- আপডেট টাইম : ০৪:৪৫:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্যানেল চেয়ারম্যান মোছা. খাদিজা বেগমকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি আপত্তিকর ভিডিও এবং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে অসদাচরণসহ বিভিন্ন অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় জেলা প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
জানা গেছে, গত ১০ জুন জেলা প্রশাসক অন্নাপূর্ণা দেবনাথ স্বাক্ষরিত এক আদেশে খাদিজা বেগমকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রম সচল রাখতে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. ফিরোজ কবিরকে প্রশাসকের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর সন্তোষপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পান খাদিজা বেগম। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই পরিষদের একাধিক সদস্যের সঙ্গে তার বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে ইউপি সদস্যরা তার বিরুদ্ধে অসদাচরণ, স্বেচ্ছাচারিতা এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ এনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন।
এরই মধ্যে কয়েকদিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খাদিজা বেগমের একটি আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি এবং এর কয়েকটি স্ক্রিনশট দ্রুত ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ভাইরাল হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। একজন জনপ্রতিনিধির এমন কর্মকাণ্ডে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা।
অন্যদিকে, অভিযোগগুলোর বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
এ বিষয়ে খাদিজা বেগমের বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ. এম. খোদাদাদ হোসেন বলেন, শুধু ভিডিও ভাইরাল হওয়ার কারণে খাদিজা বেগমকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ ছিল। এসব অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও জনসেবা অব্যাহত রাখার স্বার্থে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

ধর্ষণের অভিযোগে শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতাকে আটক
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ
- আপডেট টাইম : ০৪:৩৬:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর লাকসামে উদ্ধার ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও জোর করে ভ্রুণ নষ্ট করার অভিযোগে মামলা হয়েছে।
পুলিশ দাবি করছে, জিসানকে কেউ অপহরণ করেনি; তিনি নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন। শুক্রবার রাতে কুমিল্লা জেলা পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
অভিযুক্ত জিসান মিয়া প্রধান ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলা পশ্চিমের সাবেক সভাপতি ছিলেন।
শনিবার বেলা ১টার দিকে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামান বলেন, ভুক্তভোগীর করা মামলায় জিসান মিয়া প্রধান আসামি। তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পুলিশি হেফাজতে চিকিৎসাধীন।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, জিসান মিয়া প্রধান গত ২০ মে দাউদকান্দিতে তার ভাড়া বাসায় ওই তরুণীকে নিয়ে যান। সেখানে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে তরুণী অন্তঃসত্ত্বা হলে ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে তার গর্ভের ভ্রূণ নষ্ট করা হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ঘটনার পর তিনি জিসানের কাছে বিয়ের দাবি জানালে জিসান প্রথমে সম্মতি দিলেও পরে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে গত বৃহস্পতিবার তিনি আত্মগোপনে চলে যান। একই সময় তার চাচাতো ভাই রাসেল আহমেদের মাধ্যমে থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
এদিকে, নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর শুক্রবার রাতে কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে জিসানকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
দাউদকান্দি মডেল থানার তদন্ত পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) সামছুল আলম বলেন, প্রাথমিক তদন্তে অপহরণের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বরং ব্যক্তিগত ও প্রতারণামূলক একটি ঘটনার জেরে জিসান নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে এক নারী ধর্ষণ, ভ্রূণ নষ্টসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে মামলা করেছেন।

ফিলিপাইনে ভূমিকম্পের তাণ্ডব, প্রাণহানি বেড়ে ৬১
- আন্তর্জাতিক ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৪:২৬:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
ফিলিপাইনের মিন্দানাও অঞ্চলে চলতি সপ্তাহে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬১ জনে পৌঁছেছে। শনিবার দেশটির কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে এখনও উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। খবর আনাদোলু এজেন্সির।
ফিলিপাইনের বেসামরিক প্রতিরক্ষা দপ্তর জানায়, ধ্বংসস্তূপ ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে আরও মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত ৩৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১,২২১ জন।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিধস ও ভবন ধসের ঘটনায় আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে জরুরি সেবা কর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করছেন। জীবিতদের খোঁজার পাশাপাশি নিহতদের মরদেহ উদ্ধারের কাজও চলছে।
ভূমিকম্পে মিন্দানাও অঞ্চলে মোট ৫ লাখ ৫৩ হাজার ৬৮ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে প্রায় ৯ হাজার ৩৯৩ জন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। এছাড়া ৫৪ হাজার ২৭৪ জন আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের বাড়িতে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় নিয়েছেন।
প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির হিসাবে দেখা গেছে, ৮ হাজার ৮৬৫টি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং আরও ৩৬ হাজার ৬৯১টি বাড়ি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উদ্ধারকাজে বারবার আফটারশক, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন এবং ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে অনেক দুর্গত এলাকায় ত্রাণ ও উদ্ধার সহায়তা পৌঁছাতে বিলম্ব হচ্ছে।
চলতি সপ্তাহে মিন্দানাও উপকূলের কাছে আঘাত হানে ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প। এতে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘরবাড়ি, স্কুল, হাসপাতালসহ বিভিন্ন অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

ঝিনাইদহে কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টা, রিকশাচালককে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ
- আপডেট টাইম : ০৪:০৯:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে প্রতিবেশী এক কিশোরীকে (১১) ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মীর ফারুক (৪০) নামের এক রিকশাচালককে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে এলাকাবাসী।
শনিবার (১৩ জুন) সকালে উপজেলার বলিদাপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত মীর ফারুক ঝিনাইদহ সদর উপজেলার চণ্ডিপুর গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বলিদাপাড়া এলাকার একটি ভবনের ফ্ল্যাটে সাবলেট হিসেবে সপরিবারে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছিলেন মীর ফারুক। শুক্রবার দিবাগত রাতে একই ফ্ল্যাটে সাবলেটে থাকা প্রতিবেশীর ১১ বছরের কন্যাসন্তানকে ধর্ষণের চেষ্টা চালান ফারুক। শনিবার সকালে ভুক্তভোগী শিশুটি বিষয়টি তার মাকে জানায়।
পরবর্তীতে ঘটনাটি জানাজানি হলে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত ফারুককে আটক করে গণপিটুনি দেয় এবং পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে কালীগঞ্জ থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফারুককে উদ্ধার করে। গণপিটুনিতে আহত হওয়ায় তাকে চিকিৎসার জন্য কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন জানান, এই ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তাড়াশে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার শপথ
- তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৩:৩৪:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অটোরিকশা ছিনতাই: ভুরুঙ্গামারীতে গ্রেপ্তার ২
- মো. কাজল ইসলাম, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৩:৩২:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

মন্দিরের সম্পত্তি রক্ষায় শরীয়তপুরে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও সমাবেশ
- শরীয়তপুর প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০১:৫০:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
শরীয়তপুর সদর উপজেলার বুড়িরহাট বাজারস্থ শ্রী শ্রী রাধা মাধব মন্দিরের সম্পত্তি রক্ষা ও উদ্ধারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়। শনিবার (১৩ জুন) বেলা ১২ টার দিকে শ্রী শ্রী রাধা মাধব মন্দিরের ভক্তবৃন্দের ব্যানারে বুড়িরহাটে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
ওই মন্দিরের সভাপতি বিশ্বনাথ বোস ও সাধারন সম্পাদক রাম কৃষ্ণ দেবনাথের নেতৃত্বে এ কর্মসূচিতে বিপুল সংখ্যক হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন অংশ্রগ্রহণ করেন।
কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, শরীয়তপুর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সাধারন সম্পাদক মানিক ব্যানার্জী কুটচাল করে মন্দিরের সম্পত্তি নিজ নামে জাল দলিল করে নেয়। বারবার ওই সম্পত্তি ফেরত দিবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েও কথা রাখেনি। আমরা ভূমিদস্যু মানিক ব্যানার্জীর কালো ধাবা থেকে মন্দিরের সম্পত্তি রক্ষা চাই। এজন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, জাতীয় সংসদের হুইপ ও শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলাম এবং শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. সফিকুর রহমান কিরনের কাছে সুদৃষ্টি কামনা করছি।

হারানো দিনের স্মৃতি
- রিপোর্টার। জনতার কন্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০১:৩৩:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
মহসিন আলম মুহিন

বার কাউন্সিলের এমসিকিউ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ জাইমা রহমান
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ.কম।
- আপডেট টাইম : ১১:৪২:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের অধীন অধস্তন আদালতে আইনজীবী তালিকাভুক্তির প্রথম ধাপের এমসিকিউ পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে পাস করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।
শুক্রবার (১২ জুন) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া স্টোরিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন তিনি।
জাইমা রহমান লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমি আপনাদের কাছে ছোট একটি ব্যক্তিগত সাফল্যের কথা শেয়ার করতে চাই। আমার দেশে আইন প্র্যাকটিসের জন্য আজ বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের প্রথম ধাপ এমসিকিউ পরীক্ষায় অংশ নিই। আল্লাহর রহমতে সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি।’
জানা গেছে, এবারের পরীক্ষায় জাইমা রহমান বিএএফ শাহীন কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা দিয়েছিলেন।
এর আগে শুক্রবার সকালে ১০০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এদিন রাতেই বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ওয়েবসাইটে এমসিকিউ পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়। এতে মোট ৯ হাজার ২০১ পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন।
চলতি বছরের এ পরীক্ষায় আবেদন করেছিলেন ৩৭ হাজার ৮০ পরীক্ষার্থী। উত্তীর্ণদের তালিকা দেখতে এখানে ক্লিক করুন।
এদিকে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আইনজীবী তালিকাভুক্তি পরীক্ষা তিন ধাপে অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমে এমসিকিউ, এরপর লিখিত এবং সর্বশেষ মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। তিন ধাপেই উত্তীর্ণ প্রার্থীরা আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার সুযোগ পান।

বিশ্বকাপ খেলা দেখে ফেরার পথে ঝরে গেল আসিফের প্রাণ
- রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ১১:৩৫:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

আজ সাবেক মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী
- নিজস্ব প্রতিবেদক। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ১১:২৯:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
আজ শনিবার (১৩ জুন) সাবেক স্বরাষ্ট্র ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী। সিরাজগঞ্জ থেকে জাতীয় রাজনীতিতে যে কজন নেতৃত্ব দিয়েছেন তার মধ্যে অন্যতম ছিলেন মোহাম্মদ নাসিম।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর শহীদ এম মনসুর আলীর মেজ ছেলে মোহাম্মদ নাসিম ১৯৪৮ সালের ২ এপ্রিল সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার রতনকান্দি ইউনিয়নের কুড়িপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। আশির দশক থেকে শুরু করে তিনি টানা পাঁচ দশক জাতীয় রাজনীতিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুব বিষয়ক সম্পাদক, এরপর প্রচার সম্পাদক, তারপর টানা দুই মেয়াদে সাংগঠনিক সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১২ সাল থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যের পাশাপাশি ১৪ দলের সমন্বয়কের দায়িত্বে ছিলেন নাসিম।
টানা চার বারসহ মোট ছয় বারের সংসদ সদস্য নাসিম ১৯৯১ সালে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে প্রথমে ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ছিলেন। পরবর্তীকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০১৪ সাল থেকে তিনি পাঁচ বছর স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
২০২০ সালের ১৩ জুন করোনায় আক্রান্ত হয়ে ঢাকার শ্যামলীতে অবস্থিত বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চিরবিদায় নেন মোহাম্মদ নাসিম।
২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয় না। তবে ফেসবুকে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা স্ট্যাটাস দিয়ে শোক প্রকাশ করেন।

মালয়েশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার আদলে শিক্ষাব্যবস্থা উন্নয়নের পরিকল্পনা চলছে: শিক্ষামন্ত্রী
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ.কম।
- আপডেট টাইম : ১১:০৫:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আমরা বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে নিয়ে যাব। ইতোমধ্যে আমরা বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে মালয়েশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার মানদণ্ডে উন্নীত করার লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছি।
তিনি বলেন, দেশের বিশাল জনসংখ্যাকে মানবসম্পদে রূপান্তর করতে এবং আগামীর স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
শুক্রবার (১২ জুন) চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আয়োজনে স্টার্ট-আপ, বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবন ধারণা প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, আমরা আগে যে ধরনের মুখস্থনির্ভর শিক্ষা গ্রহণ করেছি, বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা সেটির চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা মূলত ইনোভেশন, স্টার্ট-আপ এবং প্রজেক্ট বেইজড। শিক্ষার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে বর্তমান বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান রাসেল। প্রদর্শনীতে ৬ কলেজসহ উপজেলার মোট ২৬ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে।
শিক্ষার্থীরা এখানে তাদের উদ্ভাবনী চিন্তার মোট ২৯ প্রজেক্ট উপস্থাপন করে। প্রতিযোগিতা শেষে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিজয়ী, প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারীদের মাঝে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট বিতরণ করা হয়।
প্রজেক্ট প্রদর্শন প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছে কচুয়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়। দ্বিতীয় হয়েছে রহিমানগর বিএবি উচ্চ বিদ্যালয় ও তৃতীয় হয়েছে গুলবাহার সরকারি টেকনিকেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন— উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু নাছির, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তপু আহমেদ, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সাওকাত হোসেন সুমন, ভারপ্রাপ্ত উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আলী আশরাফ, কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল ইসলাম আকাশ, শিক্ষক, সুধী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা।

ধর্ষণ মামলার আসামি শিবির নেতা, আত্মগোপনকে সাজালেন ‘অপহরণ নাটক’
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ.কম।
- আপডেট টাইম : ১০:৪১:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
কুমিল্লার দাউদকান্দিতে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। শনিবার (১৩ জুন) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে কুমিল্লা জেলা পুলিশ।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, জিসান মিয়া প্রধান গত ২০ মে দাউদকান্দিতে তার ভাড়া বাসায় ওই তরুণীকে নিয়ে যান। সেখানে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে তরুণী অন্তঃসত্ত্বা হলে ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে তার গর্ভের ভ্রূণ নষ্ট করা হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ঘটনার পর তিনি জিসানের কাছে বিয়ের দাবি জানালে জিসান প্রথমে সম্মতি দিলেও পরে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে গত বৃহস্পতিবার তিনি আত্মগোপনে চলে যান। একই সময় তার চাচাতো ভাই রাসেল আহমেদের মাধ্যমে থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
এদিকে, নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর শুক্রবার রাতে কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে জিসানকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
দাউদকান্দি মডেল থানার তদন্ত পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) সামছুল আলম বলেন, প্রাথমিক তদন্তে অপহরণের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বরং ব্যক্তিগত ও প্রতারণামূলক একটি ঘটনার জেরে জিসান নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে এক নারী ধর্ষণ, ভ্রূণ নষ্টসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে মামলা করেছেন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে জিসান কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে করা মামলার অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিবার জানায়, বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে কুমিল্লার দাউদকান্দি মডেল মসজিদে এশার নামাজ আদায়ের পর থেকে জিসানের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। রাত সাড়ে ৮টার পর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও পরিবারের সদস্যরা তার সন্ধান পাননি।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় জিসান জানিয়েছেন, দাউদকান্দি মডেল মসজিদের সামনে থেকে তাকে একটি গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়েছিল। এরপর থেকে আমি আর কিছু বলতে পারি না বা মনে করতে পারছি না।
অভিযুক্ত জিসান মিয়া প্রধান বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক। তিনি সংগঠনটির কুমিল্লা পশ্চিম জেলা শাখার সাবেক সভাপতিও ছিলেন।
উল্লেখ্য, মামলায় আনা অভিযোগগুলো বর্তমানে তদন্তাধীন।

জনপ্রতিনিধিদের সাড়া না পেয়ে নিজেদের টাকায় রাস্তা মেরামত করলেন গ্রামবাসী
- জয়পুরহাট প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ১২:২২:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
বারবার আবেদন করেও মেলেনি জনপ্রতিনিধিদের সাড়া। অবশেষে দীর্ঘদিনের চরম ভোগান্তির প্রতিবাদ জানাতে নিজেদের অর্থায়নে রাস্তা মেরামতের অনন্য উদ্যোগ নিয়েছেন জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার মামুদপুর ইউনিয়নের রসুলপুর পকপাড়া গ্রামের বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাহমুদপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের রসুলপুর পকপাড়া গ্রামে প্রায় দুই শতাধিক পরিবারের বসবাস। গ্রামের একমাত্র ইটসলিং রাস্তাটি গত ৫-৬ বছর আগে নির্মাণ করা হলেও দীর্ঘদিন কোনো সংস্কার করা হয়নি। ফলে ইট উঠে গিয়ে রাস্তাটিতে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত ও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ এই রাস্তাটি চলাচলের একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়ায় স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন। বিশেষ করে এলাকার কৃষিপণ্য অটোভ্যানে করে বাজারে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।
জনপ্রতিনিধিদের এমন উদাসীনতার প্রতিবাদে এবং ভোগান্তি থেকে বাঁচতে গ্রামের মানুষ নিজেদের মধ্যে বাড়ি বাড়ি গিয়ে টাকা তুলে একটি তহবিল গঠন করেন। পরবর্তীতে প্রায় ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে শুক্রবার (১২ জুন) সকাল থেকে নিজেদের অর্থায়নে রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু করেন তারা।
রাস্তা মেরামতের কাজ করার সময় স্থানীয় আব্দুর ইউসুফ নামের এক যুবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা ইউনিয়ন পরিষদেও গিয়েছি, কিন্তু সেখানে কাজের কোনো উদ্যোগ বা বরাদ্দের খবর পাওয়া যায়নি। তারা আমাদের সবসময় বলে যে কোনো বরাদ্দ নেই। তাই নিরুপায় হয়ে আমরা গ্রামবাসী নিজেদের খরচে এই রাস্তা মেরামতের কাজ করছি। এখানে প্রায় ৫০ হাজার টাকার মতো ব্যয় হচ্ছে। আমরা আশা করি, ইনশাআল্লাহ আগামী দিনে সরকার যেন এই রাস্তার দিকে নজর দেয় এবং দ্রুত এটি কার্পেটিংয়ের ব্যবস্থা করে।
এই সংস্কার কাজের উদ্দ্যোক্তা আসলাম মন্ডল বলেন, আমরা রসুলপুর পকপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে আমরা চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছি। রাস্তার এই বেহাল দশা নিয়ে আমরা বারবার ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার এবং এমনকি ইউএনও সাহেবের কাছেও গিয়েছি। কিন্তু কেউ আমাদের এই রাস্তার কোনো কাজ করে দেয়নি। বিগত ১৫ বছর আওয়ামী লীগ সরকার গিয়েছে, ১৫ বছর বিএনপি গিয়েছে- কিন্তু কেউ আমাদের এই রাস্তায় একটা টাকারও কাজ করে দেয়নি! সব জায়গায় ব্যর্থ হওয়ার পর আমরা গ্রামের মানুষ নিজেরা মিলে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা তুলে তহবিল গঠন করেছি। এখন নিজেদের পকেটের টাকা খরচ করে আমরা নিজ হাতে এই রাস্তা মেরামতের কাজ করছি। আমাদের মাহমুদপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিলন মন্ডল আমাদের এই রাস্তার বিষয়টি ইউএনও সাহেবকেও কখনো জানাননি এবং এই রাস্তার প্রতি কোনো নজর দেননি।
রাস্তা মেরামতের কাজে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দা আজিজার, জালাল, একরামুল, মিটু, হাশেম আলীসহ গ্রামবাসীরা দাবি করে জানান, চেয়ারম্যান-মেম্বারের কাছে বারবার গিয়ে শুধু আশ্বাসই পেয়েছি, কোনো কাজ হয়নি। আমাদের দুর্ভোগ কেউ দেখে না। তাই বাধ্য হয়ে গ্রামের সবাই মিলে টাকা তুলে রাস্তা মেরামত করছি। আমরা দ্রুত এই রাস্তাটি কার্পেটিং করার দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রেজাউল করিম বলেন, ওই গ্রামবাসী আমার কাছে এসেছিল এবং আমি প্যানেল চেয়ারম্যানকে বিষয়টি জানিয়েছি। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদে পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় কাজ করা সম্ভব হয়নি।
মামুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মিলন মন্ডল গ্রামবাসীর এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, এলাকাবাসী নিজস্ব অর্থায়নে রাস্তা মেরামত করছে, এটি অবশ্যই প্রশংসনীয়। আগামীতে বরাদ্দ এলে রাস্তাটির স্থায়ী উন্নয়ন কাজ করা হবে।
যোগাযোগ করা হলে ক্ষেতলাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা চৌধুরী জানান, গ্রামবাসীর নিজস্ব অর্থায়নে রাস্তা মেরামতের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আমি দ্রুত ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে আগামী বরাদ্দে এই রাস্তার স্থায়ী কাজ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

ক্ষেতলালে ২শ বছরের ঐতিহ্যবাহী সন্যাসতলীর ঘুড়ির মেলা
- জয়পুরহাট প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ১২:১৯:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় তুলশীগঙ্গা নদীর তীরবর্তী সন্যাস মন্দিরে পূজা উদযাপন উপলক্ষে বসেছে ২ দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী ঘুড়ির মেলা। গ্রামীণ এই মেলাটি স্থানীয়ভাবে ‘সন্যাসতলীর ঘুড়ির মেলা’ হিসেবে পরিচিত। লোকজ সংস্কৃতি, দুই শতাব্দীর পুরোনো ঐতিহ্য আর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অভূতপূর্ব মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে এই আয়োজন।
মেলার সঠিক ইতিহাস কেউ নিশ্চিত করে বলতে না পারলেও জনশ্রুতি রয়েছে, সন্যাসী পূজাকে কেন্দ্র করে দুইশত বছরেরও বেশি সময় আগে এই মেলার উৎপত্তি ঘটে। সেই থেকে পঞ্জিকা অনুসারে প্রতি বছর জ্যৈষ্ঠ মাসের শেষ শুক্রবার সকাল থেকে বসে এই ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ মেলা।
শুক্রবার সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই বিভিন্ন দোকানিরা মেলাপ্রাঙ্গণে পসরা সাজিয়ে বসেন। বিকেল গড়ানোর সাথে সাথে মানুষের ঢল নামে পুরো এলাকায়। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা মন্দিরে পূজা অর্পণ করলেও এই উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে সব ধর্মের মানুষের মাঝে। মেলাকে ঘিরে আশপাশের কয়েকটি গ্রামে বিরাজ করছে উৎসবের আবহ; ঘরে ঘরে চলছে জামাই ও দূর সম্পর্কের স্বজনদের আপ্যায়নের ধুম।

রং-বেরঙের ঘুড়ি এই মেলার মূল আকর্ষণ হলেও, বর্তমানে এর পরিধি অনেক বেড়েছে। মেলায় বসেছে রকমারি মিষ্টির দোকান, যেখানে বিভিন্ন আকারের আকর্ষণীয় মিষ্টি ও চিনির শাহী জিলাপি দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করছে।
এছাড়া মেলায় বাঁশ, কাঠ ও লোহার তৈরি গৃহস্থালি সামগ্রী এবং গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী মাছ ধরার নানা যন্ত্রের আমদানি নজর কাড়ছে ক্রেতাদের। শিশুদের খেলনা এবং প্রসাধন সামগ্রীর দোকানেও দেখা গেছে উপচে পড়া ভিড়।
মেলায় আসা স্থানীয় মহব্বতপুর গ্রামের দুলাল ও জিয়াপুরের কাজী রফিকুল বলেন, আমাদের বাবা-দাদারা এই মেলায় আসতেন, আমরাও প্রতি বছর এখানে কেনাকাটা করতে আসি। এটি আমাদের আবেগের জায়গা।
শুধু স্থানীয়রাই নন, দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষেরও ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
নওগাঁ জেলা থেকে আসা ফারুক হোসেন, বগুড়ার সোনাতলার নিতাই চন্দ্র এবং দিনাজপুরের বিরামপুর থেকে আসা আলিফ হোসেন জানান, প্রতি বছর তাঁরা মূলত রঙ-বেরঙের ঘুড়ি কিনতেই এই সন্যাসতলীর মেলায় ছুটে আসেন।

দিনব্যাপী এই মেলাটি সরকারিভাবে ইজারা প্রদান করা হয়। স্থানীয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে উন্মুক্ত ডাকে অংশগ্রহণ করে ইজারা নিয়ে এই মেলার আয়োজন করেন।
ক্ষেতলাল উপজেলার মামুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মামুন বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এই মেলার মূল আকর্ষণ ঘুড়ি। তবে এটি এখন এই অঞ্চলের সব ধর্মের মানুষের একটি বড় উৎসবে পরিণত হয়েছে।
সন্যাস মন্দির কমিটির সভাপতি মন্টু চন্দ্র বলেন, প্রায় দুইশত বছরের পুরোনো এই মেলাটি আমরা হিন্দু-মুসলিম সবাই মিলে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে পরিচালনা করি। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা এখানে আসেন। এই মেলা আমাদের দীর্ঘদিনের সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
একদিন ব্যাপী এই মেলায় আগত হাজার হাজার দর্শনার্থী ও ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ছিল তৎপর। ক্ষেতলাল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল করিমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ টিমকে মেলাপ্রাঙ্গণে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।
আধুনিকতার ভিড়ে যখন গ্রামীণ লোকজ সংস্কৃতি হারিয়ে যেতে বসেছে, তখন জয়পুরহাটের এই সন্যাসতলীর মেলা আজও টিকিয়ে রেখেছে গ্রামীণ ঐতিহ্য, সম্প্রীতি আর মানুষের আত্মিক মেলবন্ধন।

যে কারণে ফেসবুক-মেসেঞ্জারে বিভ্রাট
- ন্যাশনাল ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ১০:১৪:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
প্রায় এক ঘণ্টা বিভ্রাটের পর মেটা মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক, মেসেঞ্জার ও ইনস্টাগ্রাম সচল হচ্ছে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুরোপুরি সচল হয়নি।
বিভ্রাট পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ডাউনডিটেক্টরের তথ্যানুযায়ী, শুক্রবার (১২ জুন) সন্ধ্যা পর্যন্ত এক লাখের বেশি ব্যবহারকারী ফেসবুকে সমস্যার অভিযোগ জানান। একই সময়ে প্রায় ১০ হাজার ব্যবহারকারী ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারে এবং লগইন করতে সমস্যার কথা জানান।
ডাউনডিটেক্টর জানায়, বাংলাদেশে শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা ২১ মিনিটের পর থেকেই ফেসবুক আইডিতে লগইন করা যায়নি। যেগুলো ছিল, সেগুলোও অটো লগআউট হয়ে যাচ্ছিল। আবার অ্যাপ বা ওয়েবসাইট রিলোড হতে দেরি হওয়া এবং নিউজফিড আপডেট না হওয়ার মতো সমস্যার কথা জানিয়েছেন অনেকে অনেক ব্যবহারকারী।
ফেসবুকের মূল অ্যাপ, মেসেঞ্জার এবং ইনস্টাগ্রামের বিভিন্ন ফিচার ব্যবহার করতে গিয়ে অনেক ব্যবহারকারী ত্রুটি বার্তা পাচ্ছেন বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে মেটা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিভ্রাটের কারণ জানায়নি। তবে প্রতিষ্ঠানটির স্ট্যাটাস ওয়েবসাইটে ফেসবুক অ্যাডস ম্যানেজার সেবায় ‘উচ্চমাত্রার বিঘ্ন’ দেখা দেওয়ার তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
মেটার পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘আমাদের প্রকৌশল দল বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছে এবং যত দ্রুত সম্ভব সমস্যা সমাধানে কাজ করছে।’

বিনোদন ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম 



















































































